
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে তারা ইরানের কয়েকটি দ্রুতগতির নৌযান ধ্বংস করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন নৌ-অভিযান শুরুর পর প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় বাধা দিতে গিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’, যা শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা ব্যবহার করে মার্কিন সুরক্ষায় থাকা জাহাজগুলোর ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে এসব আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযানে বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধজাহাজ, আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক উড়োজাহাজ এবং সাবমেরিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।
অন্যদিকে, ইরান এসব দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নৌযান ধ্বংস হয়নি এবং প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিক হয়নি।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি কূটনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।





















