লেখা: আকিবুল ইসলাম জিসাদ
চট্টগ্রাম শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তা আর নতুন কোনো চিত্র নয়—বরং দীর্ঘদিনের একটি পুনরাবৃত্ত নগর–সমস্যা। গত শনিবার প্রবর্তক মোড় এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টার হালকা বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। মুহূর্তেই ব্যস্ত সড়ক পরিণত হয় প্রায় অচল এক জলমগ্ন এলাকায়।
প্রথমেই থমকে যায় যান চলাচল। ব্যক্তিগত গাড়ি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়, কিছু গাড়ি স্থানীয়দের সাহায্যে ঠেলে সরাতে হয়। রিকশাচালকদের হাঁটুসমান পানির মধ্য দিয়ে যাত্রী নিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যায়—যা একদিকে জীবিকার সংগ্রাম, অন্যদিকে শহরের অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি।

নগরজীবনে সরাসরি প্রভাব
এই জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বড় ভোগান্তি পড়ে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেককে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ নিতে হয়, আবার কেউ দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকেন। গণপরিবহনের সংকটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পানি ভেঙে স্কুল–কলেজে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেকেই ভিজে ও ক্লান্ত অবস্থায় পৌঁছায়।

জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
ড্রেনের নোংরা পানি ও রাস্তার পানি একসঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের গর্ত ঢেকে যায়, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে। জলাবদ্ধতা কেবল চলাচল ব্যাহত করে না—এটি নগর নিরাপত্তারও প্রশ্ন তৈরি করে।
সমস্যার মূল কারণ
চট্টগ্রামের এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের—
- অপরিকল্পিত নগরায়ণ
- দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা
- নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব
- এবং জনসচেতনতার ঘাটতি
সব মিলিয়ে এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো যত্রতত্র ময়লা–আবর্জনা ফেলা, বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য।

প্রশ্ন ও বাস্তবতা
নগরবাসীর মধ্যে এখন একটি সাধারণ প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে—
সামান্য বৃষ্টিতেই যদি শহর ডুবে যায়, তাহলে ভারী বর্ষায় পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে?
এ প্রশ্নের পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতা স্পষ্ট—সমাধানের প্রতিশ্রুতি বারবার এলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন খুবই সীমিত।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অনুপস্থিতি
এটি শুধু একটি দিনের জলাবদ্ধতা নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতার প্রতিফলন। পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতা, সমন্বয়ের অভাব এবং কার্যকর মনিটরিং না থাকায় সমস্যা বছরের পর বছর একইভাবে থেকে যাচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















