
দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা গত প্রায় দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা তিন শতাধিক ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃত্যুগুলোর বেশিরভাগই ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের। একই সময়ে নতুন করে হাজারের বেশি শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ শনাক্ত হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নেওয়ার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রাজধানী অঞ্চল ছাড়াও রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি। কিছু বিভাগে নিশ্চিত হামে মৃত্যু কম হলেও উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগ তৈরি করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের ঘাটতি এবং পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিয়মিত টিকা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় অনেক শিশু প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পায়নি। ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, আগে থেকেই সতর্কবার্তা থাকলেও বড় পরিসরে কোনো প্রতিরোধমূলক ক্যাম্পেইন চালানো হয়নি। নির্ধারিত সময়েও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও দেখা গেছে, হাম-রুবেলা টিকার ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতাই মূল সমস্যা। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হলেও তা সময়মতো কার্যকর হয়নি, ফলে নিয়মিত কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন প্রকল্প পুনর্গঠন ও অনুমোদনে বিলম্বের কারণে ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহেও সমস্যা দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থায়।
এদিকে, কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণ ও ভিটামিন এ কর্মসূচি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এসব উদ্যোগ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এবং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব ছিল। এখন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















