নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ৯ জুন ২০২৬
দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অধিকাংশ শিশুরই টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি বলে উঠে এসেছে এক বিশ্লেষণে। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৬১ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে টিকা গ্রহণের বয়স হওয়ার আগেই।
হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা শিশু জুবায়েরের ঘটনাও এমন বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। আক্রান্ত হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী টিকা দেওয়ার জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর আগে টিকার অভাবে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।
জুবায়েরের মা কাকলি আক্তার বলেন, টিকা না থাকায় তার সন্তানকে আগে কোনো টিকা দেওয়া হয়নি। পরে শিশুর মৃত্যুর পর স্বাস্থ্যকর্মীরা যোগাযোগ করলে তিনি তাদের জানান, জুবায়ের আর বেঁচে নেই।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ৪৭টি মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হামে মারা যাওয়া ২৯ জন শিশুর টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি। এছাড়া বয়স হওয়ার পরও টিকা পায়নি ১৩ জন শিশু। মাত্র দুইজন এক ডোজ টিকা পেয়েছিল। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে এক মাস বয়সী শিশুও রয়েছে।
বর্তমানে দেশে হামের টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে। তবে টিকা দেওয়ার বয়সসীমা কমিয়ে আনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আসমা খান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা শিশুদের হামের প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্ত করতে পারেননি। সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসা করানোর কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। পরবর্তীতে নিউমোনিয়াসহ জটিলতা দেখা দেওয়ায় অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামে মৃত্যুর ৫১ শতাংশ ঘটে ৯ মাস বয়স হওয়ার আগেই। এছাড়া ৪৪ শতাংশ মৃত্যু হয় ৯ মাস থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে। মারা যাওয়া অনেক শিশুই অপুষ্টিতে ভুগছিল অথবা আগে থেকেই অন্য রোগে আক্রান্ত ছিল। দুই ডোজ টিকা পাওয়া কোনো শিশুর হামে মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, শিশু ও মায়ের পুষ্টি, মাতৃদুগ্ধ পান এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যথেষ্ট কার্যকর থাকছে কি না, সেটিও নতুন করে মূল্যায়ন করা দরকার।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমাতে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদকের নাম 

























