সাবেক আইনমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল হক এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২৩টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব হিসাবে ৭৩৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।

১৭২ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য
দুদকের তদন্তে আনিসুল হকের নিজের নামে থাকা সম্পদের পাশাপাশি তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও তিন ব্যক্তির নামে থাকা সম্পদের তথ্যও উঠে এসেছে।
তদন্ত অনুযায়ী, আনিসুল হকের নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
তিন ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন—
-
আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক—২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা।
-
তার ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম—২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা।
-
কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল—৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা।
তদন্তে বলা হয়েছে, জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।
যেসব আইনে অপরাধের তথ্য
দুদকের তদন্তে আনিসুল হক, জেবুন্নেসা বেগম হক কলি, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইকবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক।
তবে এসব তথ্য দুদকের তদন্তে পাওয়া অভিযোগ ও তথ্য; চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি এই প্রতিবেদনের তথ্য থেকে বলা যায় না।
প্রতিবেদকের নাম 




















