কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে তা পবিত্র করার বিষয়ে ফিকহের মাজহাবভেদে মতপার্থক্য রয়েছে। আপনি যে লেখাটি দিয়েছেন, সেটি মূলত হানাফি ফিকহের আলোকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে।
কাপড় কীভাবে পবিত্র করবেন?
হানাফি মত অনুযায়ী, কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে লালা লেগে থাকা স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে নাপাকি দূর করতে হবে। প্রচলিতভাবে তিনবার ধোয়ার কথা বলা হলেও, মূল বিষয় হলো নাপাকি দূর হওয়া।
কুকুরের মুখ কোনো পাত্রে লাগার বিষয়ে হাদিসে ধোয়ার নির্দেশ এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কুকুর কোনো পাত্রে মুখ দিলে তা ধুয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিভিন্ন ফিকহি ব্যাখ্যায় এই হাদিসের ভিত্তিতে কুকুরের লালা ও পবিমে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, প্রয়োজন ছাড়া কুকুর রাখলে প্রতিদিন মানুষের সওয়াব থেকে দুই কিরাত কমিত্রতার বিধান আলোচনা করা হয়েছে।
কুকুর পোষার বিধান
ইসলামে প্রয়োজন ছাড়া শখ করে কুকুর পোষার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তবে শিকার, গবাদিপশু বা ক্ষেত-খামার পাহারা এবং অনুরূপ প্রয়োজনীয় কাজে কুকুর রাখার অনুমতি রয়েছে।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, প্রয়োজন ছাড়া কুকুর রাখলে প্রতিদিন মানুষের সওয়াব থেকে দুই কিরাত কমে যায়।
কুকুরের প্রতি দয়া করা যাবে?
অবশ্যই। কুকুরের লালা নাপাক—এমন ফিকহি বিধান থাকার অর্থ এই নয় যে প্রাণীটির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে। প্রাণীর প্রতি দয়া, খাবার ও পানি দেওয়া এবং বিপদে সাহায্য করা ইসলামে প্রশংসনীয়।
সহিহ বুখারিতে এমন এক ব্যক্তির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যিনি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছিলেন।
সংক্ষেপে: আপনার উল্লেখ করা হানাফি মত অনুযায়ী, কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে আক্রান্ত স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে নাপাকি দূর করতে হবে; তিনবার ধোয়া নিরাপদ ও প্রচলিত পদ্ধতি। তবে এ বিষয়ে মাজহাবভেদে বিস্তারিত পার্থক্য আছে।
প্রতিবেদকের নাম 


























