
বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ধ্বংসাত্মক সাত ধরণের বিষয় থেকে তোমরা বেঁচে থাকবে। লোকজন জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, সেগুলো কী? মহানবী (সা.) বললেন, এক. আল্লাহর সাথে শিরক করা।
দুই. জাদু করা। তিন. বিনা কারণে, আল্লাহ যা হারাম করেছেন এমন কাউকে হত্যা করা। চার. সুদ খাওয়া। পাঁচ. ইয়াতিমের সম্পদ গ্রাস করা।
ছয়. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা। সাত. সতী ও মুমিন নারীর ওপর অপবাদ আরোপ করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৬৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬২)
হাদিসের শিক্ষা ও বিধান
১. আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা সবচেয়ে বড় গুনাহ। ইবাদত, দোয়া, সাহায্য প্রার্থনা ও চূড়ান্ত আনুগত্য একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত।
তাই তাওহিদকে জীবনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
২. ইসলাম জাদু ও এর চর্চাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। বিপদে পড়ে জাদুকর, গণক বা তন্ত্র-মন্ত্রের আশ্রয় না নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে এবং শরিয়তসম্মত দোয়া-রুকইয়া গ্রহণ করতে হবে।
৩. অন্যায়ভাবে একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা মারাত্মক অপরাধ। ইসলামে মানুষের জীবন, রক্ত ও নিরাপত্তার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাই রাগ, প্রতিহিংসা কিংবা স্বার্থের কারণে কারও জীবন নষ্ট করা যাবে না।
৪. সুদ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। কেননা সুদ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করে।
৫. ইয়াতিমের সম্পদের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কেননা অসহায় এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়; এটি একজন দুর্বল মানুষের অধিকার হরণ।
৬. দায়িত্বের সময় কাপুরুষতা দেখানো যাবে না। তাই ন্যায় ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে মুমিনের মধ্যে সাহস, দৃঢ়তা ও দায়িত্বশীলতা থাকা উচিত।
৭. নিরপরাধ মানুষের চরিত্রহনন থেকে বেঁচে থাকতে হবে। বিশেষ করে সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ।
Arif 



















