ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক নেওয়া কি জায়েজ?

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময় দেখুন

কেনাকাটার সময় ক্যাশব্যাক পাওয়া শরিয়তসম্মত কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে কোনো পণ্যের মূল্য পরিশোধের পর নির্দিষ্ট একটি অংশ ফেরত পাওয়াকে কেউ কেউ সুদের সঙ্গে তুলনা করেন। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

এ বিষয়ে ঢাকা আজিমপুরের ইদারাতুত তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়ার উস্তাদ মুফতি আবু সাঈদ বলেন, সুদ হলো কাউকে ঋণ দিয়ে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ বা কোনো পার্থিব সুবিধা গ্রহণ করা।

তবে কোনো বিক্রেতা যদি পণ্য কেনার পর ক্রেতাকে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই ক্যাশব্যাক বা উপহার দেন, তাহলে সেটিকে সুদ বলা যাবে না। কারণ এখানে ক্রেতা বিক্রেতাকে ঋণ দিচ্ছেন না; বরং পণ্যের মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে পণ্যটি গ্রহণ করছেন।

আরও পড়ুনঃ  তাবুক অভিযানে নবীজি (সা.) যেসব স্থানে নামাজ আদায় করেছিলেন

এ কারণে বিক্রেতার পক্ষ থেকে দেওয়া ক্যাশব্যাক বা উপহারকে মূল্যছাড় কিংবা হাদিয়া হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি ঋণের ওপর অতিরিক্ত মুনাফা বা সুদ নয়।

ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্যাশব্যাক

ব্যাংক, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের কারণে দেওয়া ক্যাশব্যাকের ক্ষেত্রেও আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। তবে মুফতি আবু সাঈদের মতে, এ ধরনের ক্যাশব্যাক বৈধ হওয়ার মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্যাংক বা ওয়ালেট কর্তৃপক্ষ সাধারণত ঋণের ওপর অতিরিক্ত অর্থ হিসেবে ক্যাশব্যাক দেয় না। বরং গ্রাহকদের নিজেদের কার্ড বা ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য এটি একটি বিপণন কৌশল হিসেবে দেওয়া হয়।

কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, ব্যাংকে গ্রাহকের জমা রাখা অর্থ ফিকহের দৃষ্টিতে ঋণ হিসেবে বিবেচিত হলে, সেই ঋণের কারণেই কি ক্যাশব্যাক দেওয়া হচ্ছে না?

আরও পড়ুনঃ  তাবুক অভিযানে নবীজি (সা.) যেসব স্থানে নামাজ আদায় করেছিলেন

এর উত্তরে দুটি বিষয় বিবেচনা করা যায়।

প্রথমত, শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী ঋণের সময় পূর্বশর্ত হিসেবে অতিরিক্ত কিছু দেওয়ার চুক্তি থাকলেই তা সুদের পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া ঋণ পরিশোধের সময় ঋণগ্রহীতা স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত কিছু দিলে তা সুদ নয়। ফিকহের পরিভাষায় এটিকে ‘হুসনে ক্বদ্বা’ বলা হয়।

এ বিষয়ে হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তার পাওনা পরিশোধ করার সময় পাওনার চেয়ে কিছু বেশি দিয়েছিলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭১৫)

দ্বিতীয়ত, ক্যাশব্যাকের সঙ্গে ব্যাংকে জমা রাখা মূল অর্থের সরাসরি সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। যেমন কোনো গ্রাহক ক্যাশব্যাকের অফার দেখে লেনদেনের ঠিক আগে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করে সঙ্গে সঙ্গে পেমেন্ট করলেও তিনি অফারের সুবিধা পেতে পারেন। অর্থাৎ ব্যাংক ওই অর্থ দিয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই ক্যাশব্যাক দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  তাবুক অভিযানে নবীজি (সা.) যেসব স্থানে নামাজ আদায় করেছিলেন

এ থেকে বোঝা যায়, এ ধরনের অফারের মূল উদ্দেশ্য গ্রাহকদের নির্দিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করা।

তবে ক্যাশব্যাকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত, লেনদেনের ধরন ও চুক্তির কাঠামো বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অফারের মধ্যে সুদের শর্ত বা শরিয়তবিরোধী অন্য কোনো বিষয় থাকলে তার বিধান ভিন্ন হতে পারে।

সুতরাং, সাধারণভাবে কোনো বিক্রেতা বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পূর্বশর্তহীনভাবে ক্যাশব্যাক বা উপহার দিলে তা মূল্যছাড় বা উপহার হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ বলে উল্লেখ করেছেন মুফতি আবু সাঈদ।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিসিকের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি: রিজভী

কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক নেওয়া কি জায়েজ?

আপডেটের সময়: ০৪:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেনাকাটার সময় ক্যাশব্যাক পাওয়া শরিয়তসম্মত কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে কোনো পণ্যের মূল্য পরিশোধের পর নির্দিষ্ট একটি অংশ ফেরত পাওয়াকে কেউ কেউ সুদের সঙ্গে তুলনা করেন। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

এ বিষয়ে ঢাকা আজিমপুরের ইদারাতুত তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়ার উস্তাদ মুফতি আবু সাঈদ বলেন, সুদ হলো কাউকে ঋণ দিয়ে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ বা কোনো পার্থিব সুবিধা গ্রহণ করা।

তবে কোনো বিক্রেতা যদি পণ্য কেনার পর ক্রেতাকে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই ক্যাশব্যাক বা উপহার দেন, তাহলে সেটিকে সুদ বলা যাবে না। কারণ এখানে ক্রেতা বিক্রেতাকে ঋণ দিচ্ছেন না; বরং পণ্যের মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে পণ্যটি গ্রহণ করছেন।

আরও পড়ুনঃ  তাবুক অভিযানে নবীজি (সা.) যেসব স্থানে নামাজ আদায় করেছিলেন

এ কারণে বিক্রেতার পক্ষ থেকে দেওয়া ক্যাশব্যাক বা উপহারকে মূল্যছাড় কিংবা হাদিয়া হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি ঋণের ওপর অতিরিক্ত মুনাফা বা সুদ নয়।

ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্যাশব্যাক

ব্যাংক, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের কারণে দেওয়া ক্যাশব্যাকের ক্ষেত্রেও আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। তবে মুফতি আবু সাঈদের মতে, এ ধরনের ক্যাশব্যাক বৈধ হওয়ার মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্যাংক বা ওয়ালেট কর্তৃপক্ষ সাধারণত ঋণের ওপর অতিরিক্ত অর্থ হিসেবে ক্যাশব্যাক দেয় না। বরং গ্রাহকদের নিজেদের কার্ড বা ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য এটি একটি বিপণন কৌশল হিসেবে দেওয়া হয়।

কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, ব্যাংকে গ্রাহকের জমা রাখা অর্থ ফিকহের দৃষ্টিতে ঋণ হিসেবে বিবেচিত হলে, সেই ঋণের কারণেই কি ক্যাশব্যাক দেওয়া হচ্ছে না?

আরও পড়ুনঃ  তাবুক অভিযানে নবীজি (সা.) যেসব স্থানে নামাজ আদায় করেছিলেন

এর উত্তরে দুটি বিষয় বিবেচনা করা যায়।

প্রথমত, শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী ঋণের সময় পূর্বশর্ত হিসেবে অতিরিক্ত কিছু দেওয়ার চুক্তি থাকলেই তা সুদের পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া ঋণ পরিশোধের সময় ঋণগ্রহীতা স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত কিছু দিলে তা সুদ নয়। ফিকহের পরিভাষায় এটিকে ‘হুসনে ক্বদ্বা’ বলা হয়।

এ বিষয়ে হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তার পাওনা পরিশোধ করার সময় পাওনার চেয়ে কিছু বেশি দিয়েছিলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭১৫)

দ্বিতীয়ত, ক্যাশব্যাকের সঙ্গে ব্যাংকে জমা রাখা মূল অর্থের সরাসরি সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। যেমন কোনো গ্রাহক ক্যাশব্যাকের অফার দেখে লেনদেনের ঠিক আগে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করে সঙ্গে সঙ্গে পেমেন্ট করলেও তিনি অফারের সুবিধা পেতে পারেন। অর্থাৎ ব্যাংক ওই অর্থ দিয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই ক্যাশব্যাক দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  তাবুক অভিযানে নবীজি (সা.) যেসব স্থানে নামাজ আদায় করেছিলেন

এ থেকে বোঝা যায়, এ ধরনের অফারের মূল উদ্দেশ্য গ্রাহকদের নির্দিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করা।

তবে ক্যাশব্যাকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত, লেনদেনের ধরন ও চুক্তির কাঠামো বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অফারের মধ্যে সুদের শর্ত বা শরিয়তবিরোধী অন্য কোনো বিষয় থাকলে তার বিধান ভিন্ন হতে পারে।

সুতরাং, সাধারণভাবে কোনো বিক্রেতা বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পূর্বশর্তহীনভাবে ক্যাশব্যাক বা উপহার দিলে তা মূল্যছাড় বা উপহার হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ বলে উল্লেখ করেছেন মুফতি আবু সাঈদ।