ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
উগ্রবাদ ও অপসংস্কৃতি রুখতে সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের আহ্বান শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার বিগত নির্বাচনে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে অপটোমেট্রি কাউন্সিল গঠনে ঐকমত্য হরমুজের নিরাপত্তা, চাবাহার বন্দর ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেলা নিয়ে তামিমের রহস্যময় মন্তব্য পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮ নরওয়ের প্রয়াত রাজা হারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুতে জামায়াতের শোক বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মসূচি ঘোষণা দেশে হামের ভয়াবহ পরিস্থিতি, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ মৃত্যু
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

চুক্তিভিত্তিক বিয়ে নিয়ে ইসলামি শরিয়তের বিধান

বিয়ে মানুষের জীবনের একটি পবিত্র ও সামাজিক বন্ধন। ইসলামে বিবাহকে শুধু আবেগ বা প্রয়োজনের বিষয় হিসেবে দেখা হয়নি; বরং এটিকে স্থায়ী দায়িত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব, ভিসা বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ বা কাগজ-কলমের বিয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইসলামি শরিয়তে এ ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

ধোঁকা ও প্রতারণা ইসলামে নিষিদ্ধ

নাগরিকত্ব বা ভিসার সুবিধা নেওয়ার জন্য বাস্তব বৈবাহিক সম্পর্কের উদ্দেশ্য ছাড়া চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করা মূলত প্রতারণা ও অসত্যের আশ্রয় নেওয়ার শামিল। ইসলামে ধোঁকা ও প্রতারণা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা মিথ্যা ও অসত্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন—

আরও পড়ুনঃ  দেশে ৮০ হাজার আইনজীবী থাকলেও পেশাগত মান নিয়ে সংশয়: আইনমন্ত্রী

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ

অর্থ: ‘সুতরাং তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো এবং পরিহার করো মিথ্যা কথা।’
—সুরা আল-হজ: ৩০

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি বা প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’
—সহিহ মুসলিম: ১০২

অন্য এক হাদিসে মুনাফিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে মিথ্যা বলা ও আমানতের খেয়ানতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
—সহিহ বুখারি: ৩৩

শরিয়তসম্মত আকদ হলে বিয়ে কার্যকর

চুক্তিভিত্তিক বিয়ের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য অসৎ হলেও, যদি শরিয়তের নির্ধারিত নিয়মে বিবাহের আকদ সম্পন্ন হয়, তাহলে ইসলামি আইনে সেই বিয়ের বৈবাহিক প্রভাব তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে ৫৫৪ গ্রেপ্তার, বিপুল মাদকসহ জব্দ নানা আলামত

যোগ্য সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব ও কবুলের মাধ্যমে শরিয়তসম্মতভাবে বিবাহ সম্পন্ন হলে তা বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুধু ‘মজা’, ‘অভিনয়’ বা সাময়িক উদ্দেশ্যের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

ثَلاَثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلاَقُ، وَالرَّجْعَةُ

অর্থ: ‘তিনটি বিষয় এমন, যা গম্ভীরভাবে করলেও কার্যকর এবং ঠাট্টা-ছলে করলেও কার্যকর—বিবাহ, তালাক ও স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া।’
—তিরমিজি: ১১৮৪; আবু দাউদ: ২১৯৪

অতএব, শরিয়তের শর্ত পূরণ করে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গণ্য হবেন। পরবর্তীতে আলাদা হতে চাইলে শরিয়তসম্মতভাবে তালাক বা খোলার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ করতে হবে।

বিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবেন না। এ অবস্থায় অন্যত্র বিয়ে করলে তা বৈধ হবে না।

আরও পড়ুনঃ  ফ্যামিলি কার্ডে ভুলের হার ১.২ শতাংশ, দাবি অর্থমন্ত্রীর

শুধু কাগজে স্বাক্ষর করলেই বিয়ে নয়

অন্যদিকে, যদি শরিয়তসম্মত ইজাব-কবুল সম্পন্ন না হয়ে কেবল কাগজপত্র বা রেজিস্ট্রি নথিতে স্বাক্ষর করা হয় এবং সাক্ষীদের সামনে বিবাহের আকদ না হয়, তাহলে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সেটিকে বিবাহ হিসেবে গণ্য করা হবে না।

এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্কও তৈরি হবে না এবং আলাদা হওয়ার জন্য পৃথক তালাকের প্রয়োজন হবে না।

সুতরাং নাগরিকত্ব, ভিসা বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করা ইসলামি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আর শরিয়তের নিয়ম মেনে আকদ সম্পন্ন হলে সেটিকে নিছক ‘চুক্তি’ বা ‘কাগজের বিয়ে’ বলে অকার্যকর মনে করার সুযোগ নেই।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

উগ্রবাদ ও অপসংস্কৃতি রুখতে সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের আহ্বান

চুক্তিভিত্তিক বিয়ে নিয়ে ইসলামি শরিয়তের বিধান

আপডেটের সময়: ০৬:২৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বিয়ে মানুষের জীবনের একটি পবিত্র ও সামাজিক বন্ধন। ইসলামে বিবাহকে শুধু আবেগ বা প্রয়োজনের বিষয় হিসেবে দেখা হয়নি; বরং এটিকে স্থায়ী দায়িত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব, ভিসা বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ বা কাগজ-কলমের বিয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইসলামি শরিয়তে এ ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

ধোঁকা ও প্রতারণা ইসলামে নিষিদ্ধ

নাগরিকত্ব বা ভিসার সুবিধা নেওয়ার জন্য বাস্তব বৈবাহিক সম্পর্কের উদ্দেশ্য ছাড়া চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করা মূলত প্রতারণা ও অসত্যের আশ্রয় নেওয়ার শামিল। ইসলামে ধোঁকা ও প্রতারণা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা মিথ্যা ও অসত্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন—

আরও পড়ুনঃ  ফ্যামিলি কার্ডে ভুলের হার ১.২ শতাংশ, দাবি অর্থমন্ত্রীর

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ

অর্থ: ‘সুতরাং তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো এবং পরিহার করো মিথ্যা কথা।’
—সুরা আল-হজ: ৩০

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি বা প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’
—সহিহ মুসলিম: ১০২

অন্য এক হাদিসে মুনাফিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে মিথ্যা বলা ও আমানতের খেয়ানতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
—সহিহ বুখারি: ৩৩

শরিয়তসম্মত আকদ হলে বিয়ে কার্যকর

চুক্তিভিত্তিক বিয়ের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য অসৎ হলেও, যদি শরিয়তের নির্ধারিত নিয়মে বিবাহের আকদ সম্পন্ন হয়, তাহলে ইসলামি আইনে সেই বিয়ের বৈবাহিক প্রভাব তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  রংপুরে ৪ খুন: মুচলেকায় আসামি সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে ছেড়ে দিল ডিবি

যোগ্য সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব ও কবুলের মাধ্যমে শরিয়তসম্মতভাবে বিবাহ সম্পন্ন হলে তা বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুধু ‘মজা’, ‘অভিনয়’ বা সাময়িক উদ্দেশ্যের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

ثَلاَثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلاَقُ، وَالرَّجْعَةُ

অর্থ: ‘তিনটি বিষয় এমন, যা গম্ভীরভাবে করলেও কার্যকর এবং ঠাট্টা-ছলে করলেও কার্যকর—বিবাহ, তালাক ও স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া।’
—তিরমিজি: ১১৮৪; আবু দাউদ: ২১৯৪

অতএব, শরিয়তের শর্ত পূরণ করে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গণ্য হবেন। পরবর্তীতে আলাদা হতে চাইলে শরিয়তসম্মতভাবে তালাক বা খোলার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ করতে হবে।

বিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবেন না। এ অবস্থায় অন্যত্র বিয়ে করলে তা বৈধ হবে না।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই থেকেই বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন, মন্ত্রিসভায় উঠছে নবম পে-স্কেল

শুধু কাগজে স্বাক্ষর করলেই বিয়ে নয়

অন্যদিকে, যদি শরিয়তসম্মত ইজাব-কবুল সম্পন্ন না হয়ে কেবল কাগজপত্র বা রেজিস্ট্রি নথিতে স্বাক্ষর করা হয় এবং সাক্ষীদের সামনে বিবাহের আকদ না হয়, তাহলে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সেটিকে বিবাহ হিসেবে গণ্য করা হবে না।

এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্কও তৈরি হবে না এবং আলাদা হওয়ার জন্য পৃথক তালাকের প্রয়োজন হবে না।

সুতরাং নাগরিকত্ব, ভিসা বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করা ইসলামি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আর শরিয়তের নিয়ম মেনে আকদ সম্পন্ন হলে সেটিকে নিছক ‘চুক্তি’ বা ‘কাগজের বিয়ে’ বলে অকার্যকর মনে করার সুযোগ নেই।