ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মেঘনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, যমজ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গির ড্রেনেজ ও রোড আইল্যান্ডের কাজ ডিসেম্বরেই শেষের নির্দেশ চট্টগ্রাম বন্দরের নিলামযোগ্য পণ্য ১৫ কার্যদিবসে খালাসের নির্দেশ বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, মাছ ধরার নৌকাকে গভীরে না যাওয়ার নির্দেশ ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি, অফিস-আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম আজমল হত্যার বিচারের দাবিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জুলাই শহীদ মুগ্ধর পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এমইপি সৌদির পাশে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত তুরস্ক, জড়াতে পারে পাকিস্তানও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোস্টগার্ড মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

১১ দলের লংমার্চ ঘিরে বিএনপির নজর, পাল্টা কর্মসূচির পরিকল্পনা নেই

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ সময় দেখুন

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ধারাবাহিক কর্মসূচি ও লংমার্চের ওপর নজর রাখছে বিএনপি। তবে আপাতত এসব কর্মসূচিকে বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দলটি। একই সঙ্গে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কোনো কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, সরকারে থেকে বিরোধী দলের কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে যেসব ইস্যুতে তারা মাঠে রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে জনসম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি চালিয়ে গেলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলেও দলের ভেতরে মত রয়েছে।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে আরেকটি লংমার্চ শুরু করেছে জোটটি। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগীয় শহরকেও কর্মসূচির আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ইতালির বিনিয়োগ আকর্ষণে চামড়া খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চকে তারা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির অবস্থান নিয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, বিএনপি বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কথা বললেও সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে এর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।

লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন

বিরোধীদের ধারাবাহিক কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সংসদে লংমার্চের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আরও পড়ুনঃ  সৌদিকে এফ-৩৫ বিক্রির অনুমোদন, ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে সংসদে তিনি বলেন, গাড়িবহর নিয়ে লংমার্চ করলেই যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হতো, তাহলে সরকারই আগে এমন কর্মসূচির আয়োজন করত।

সরকারি দলের অন্য নেতারাও বিরোধীদের কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে লংমার্চের যৌক্তিকতা, জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা এবং সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে—এসব বিষয় উঠে এসেছে।

পাল্টা কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছে না, যার জন্য পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামতে হবে।

তাদের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির কারণে জনদুর্ভোগ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আপাতত সরকারি কার্যক্রম ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমেই বিরোধীদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার অবস্থানে রয়েছে বিএনপি।

আরও পড়ুনঃ  ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনতে হবে গ্রামীণ অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী

তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত বিষয়ে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি চালিয়ে গেলে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও অবস্থান জনগণের সামনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে বলে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।

সাংগঠনিক তৎপরতাও আলোচনায়

বিরোধী দলগুলো ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় থাকায় বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বড় অংশ বর্তমানে মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সময়ে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতাও আলোচনায় এসেছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মেঘনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, যমজ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

১১ দলের লংমার্চ ঘিরে বিএনপির নজর, পাল্টা কর্মসূচির পরিকল্পনা নেই

আপডেটের সময়: ১১:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ধারাবাহিক কর্মসূচি ও লংমার্চের ওপর নজর রাখছে বিএনপি। তবে আপাতত এসব কর্মসূচিকে বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দলটি। একই সঙ্গে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কোনো কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, সরকারে থেকে বিরোধী দলের কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে যেসব ইস্যুতে তারা মাঠে রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে জনসম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি চালিয়ে গেলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলেও দলের ভেতরে মত রয়েছে।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে আরেকটি লংমার্চ শুরু করেছে জোটটি। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগীয় শহরকেও কর্মসূচির আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  তারেক রহমানকে ভারত সফরে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ: জয়সওয়াল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চকে তারা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির অবস্থান নিয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, বিএনপি বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কথা বললেও সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে এর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।

লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন

বিরোধীদের ধারাবাহিক কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সংসদে লংমার্চের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আরও পড়ুনঃ  সৌদিকে এফ-৩৫ বিক্রির অনুমোদন, ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে সংসদে তিনি বলেন, গাড়িবহর নিয়ে লংমার্চ করলেই যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হতো, তাহলে সরকারই আগে এমন কর্মসূচির আয়োজন করত।

সরকারি দলের অন্য নেতারাও বিরোধীদের কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে লংমার্চের যৌক্তিকতা, জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা এবং সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে—এসব বিষয় উঠে এসেছে।

পাল্টা কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছে না, যার জন্য পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামতে হবে।

তাদের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির কারণে জনদুর্ভোগ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আপাতত সরকারি কার্যক্রম ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমেই বিরোধীদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার অবস্থানে রয়েছে বিএনপি।

আরও পড়ুনঃ  আজমল হত্যার বিচারের দাবিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত বিষয়ে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি চালিয়ে গেলে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও অবস্থান জনগণের সামনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে বলে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।

সাংগঠনিক তৎপরতাও আলোচনায়

বিরোধী দলগুলো ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় থাকায় বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বড় অংশ বর্তমানে মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সময়ে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতাও আলোচনায় এসেছে।