Dhaka ০৭:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের যুবক নিহত, হাসপাতালে আহত বন্ধু অভিষিক্ত দুই ব্যাটারের জোড়া ফিফটিতে মিরপুর টেস্টে সুবিধাজনক অবস্থানে পাকিস্তান ঘুম থেকে ওঠেবেন কখন? বিষাক্ত জেলি দিয়ে নকল দুধ তৈরির কারখানা, কৃষক দল নেতার বাড়িতে অভিযান আসামে ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশও রোববার থেকে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে আবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত জগন্নাথপুরের অজন্তা দেব রায় পুলিশকে মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: রাষ্ট্রপতি ইরানের খারগ দ্বীপের কাছে বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তেল নেইমারকে বিশ্বকাপে দেখতে চান মেসি, বললেন—“সে সবসময় সেরাদের একজন”

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ডিজিটাল পরিচয়পত্র পাচ্ছেন হকাররা

 

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে হকারদের নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে নগরবিদদের মতে, এ উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ইতোমধ্যে ফুটপাত ও সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাদা দাগ টেনে হকারদের নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করছে। গুলিস্তান, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল পরিচয়পত্রধারী হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা: অল্প বৃষ্টিতেই নগরজীবনের স্থবিরতা ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতা

রাজধানীর ফুটপাত ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্ধারিত ছোট জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন। একজন হকার বলেন, “খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি-বাদলা ও ঝড়ের মধ্যে ব্যবসা করা কষ্টকর। আবার যে জায়গা দেওয়া হয়েছে, সেখানে মালামাল রাখা ও দাঁড়িয়ে ব্যবসা করাও কঠিন।”

অন্যদিকে আশপাশের মার্কেট ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ফুটপাত ও সড়কে হকার বসলে যানজট ও ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, “যাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তারা নির্ধারিত স্থানেই বসবেন। অন্য কোথাও বসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

আরও পড়ুনঃ  ভারত ও চীনে বিশ্বকাপ সম্প্রচার অনিশ্চিত, কোটি দর্শকের সামনে বাধা তৈরি হতে পারে

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হকারদের পুনর্বাসনের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোরবানির ঈদের পর ফুটপাত না ছাড়লে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, “নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে কেউ অবৈধভাবে বসতে চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, কেবল দাগ টেনে বা পরিচয়পত্র দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা পথচারীদের চলাচল, নগর পরিকল্পনা ও হকারদের জীবিকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ, বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা

নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, “পুরোনো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করলেই সমাধান হবে না। পুরো নগর করিডোর পরিকল্পিতভাবে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পকেট জোন তৈরি করে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, হকার ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাও অত্যন্ত জরুরি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের যুবক নিহত, হাসপাতালে আহত বন্ধু

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ডিজিটাল পরিচয়পত্র পাচ্ছেন হকাররা

আপডেটের সময়: ১০:৫৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

 

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে হকারদের নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে নগরবিদদের মতে, এ উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ইতোমধ্যে ফুটপাত ও সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাদা দাগ টেনে হকারদের নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করছে। গুলিস্তান, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল পরিচয়পত্রধারী হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারণে যাচ্ছেন অমিত শাহ

রাজধানীর ফুটপাত ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্ধারিত ছোট জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন। একজন হকার বলেন, “খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি-বাদলা ও ঝড়ের মধ্যে ব্যবসা করা কষ্টকর। আবার যে জায়গা দেওয়া হয়েছে, সেখানে মালামাল রাখা ও দাঁড়িয়ে ব্যবসা করাও কঠিন।”

অন্যদিকে আশপাশের মার্কেট ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ফুটপাত ও সড়কে হকার বসলে যানজট ও ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, “যাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তারা নির্ধারিত স্থানেই বসবেন। অন্য কোথাও বসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

আরও পড়ুনঃ  ভারত ও চীনে বিশ্বকাপ সম্প্রচার অনিশ্চিত, কোটি দর্শকের সামনে বাধা তৈরি হতে পারে

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হকারদের পুনর্বাসনের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোরবানির ঈদের পর ফুটপাত না ছাড়লে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, “নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে কেউ অবৈধভাবে বসতে চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, কেবল দাগ টেনে বা পরিচয়পত্র দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা পথচারীদের চলাচল, নগর পরিকল্পনা ও হকারদের জীবিকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির বাদপড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে বাড়তি সময়

নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, “পুরোনো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করলেই সমাধান হবে না। পুরো নগর করিডোর পরিকল্পিতভাবে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পকেট জোন তৈরি করে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, হকার ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাও অত্যন্ত জরুরি।