সৌদি আরবের জেদ্দায় মিসাইল আতঙ্কে ছাদ থেকে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে সৌরভ ইসলাম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিহতের স্বজনরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে জেদ্দায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সৌরভ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলামের ছেলে। তিনি জেদ্দার আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে টি-বয় হিসেবে কাজ করতেন।
মিসাইল আতঙ্কে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনা
স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে সৌরভ জেদ্দায় যে বাসায় থাকতেন, সেই ভবনের ছাদে যান। এ সময় ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি মিসাইল জেদ্দার দিকে আসছে—এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন তিনি। একই সময়ে মোবাইলের অ্যালার্মও শুনতে পান।
দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার পায়ে একটি রশি পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সকালে তার সঙ্গে থাকা লোকজন ঘুম থেকে উঠে সৌরভকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সৌদি পুলিশ এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেখানে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
পাঁচ বছর ধরে সৌদিতে কর্মরত ছিলেন
সৌরভের স্বজনরা জানান, তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে জেদ্দার আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে কাজ করছিলেন। প্রায় এক বছর আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। ছুটি শেষে আবার সৌদি আরবে ফিরে কাজে যোগ দেন।
মঙ্গলবার বিকেলে সৌরভের এক সহকর্মী সৌদি আরব থেকে ফোন করে তার স্বজনদের মৃত্যুর খবর জানান।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত পরিবার
সৌরভের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সকালে তার গ্রামের বাড়িতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তার মা রেনু বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বলে জানান স্বজনরা।
সৌরভের বাবা আমির ইসলাম ও মা রেনু বেগম বলেন, ‘সৌরভ আমাদের একমাত্র ছেলে ছিল। ফোনে বারবার আমাদের খোঁজ নিত। এখন কে আমাদের খোঁজ নেবে? আমরা শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখতে চাই। নিজের হাতে ছেলেকে মাটি দিতে চাই।’
তারা সরকারের কাছে সৌরভের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি। পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 



















