বরিশালের মুলাদীতে মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে কলেজের দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে এক সহপাঠী ও কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী। অভিযোগ তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
গত ১৫ অক্টোবর সকালে মুলাদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
বন্ধুত্বের সম্পর্কে টানাপোড়েন, এরপর হামলার অভিযোগ
ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের সঙ্গে এক সহপাঠীর বন্ধুত্ব ছিল। তাঁরা একসঙ্গে কলেজে যাতায়াত করতেন। কয়েক দিন আগে একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে দুই ছাত্রী ওই সহপাঠীর মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সহপাঠী অন্য এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তাঁদের শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেন। পরে ওই সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তারসহ কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান।
দুই ছাত্রীর অভিযোগ, এ সময় তাঁদের চুল ধরে টানাটানি, পেটে লাথি, কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। পাশাপাশি জুতাপেটা ও পোশাক ধরে টানাহেঁচড়া করে লাঞ্ছিত করা হয়। তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি কলেজে আসা ও পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও
ঘটনার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কলেজ ক্যাম্পাসে কয়েকজন তরুণী ও ছাত্রীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে মারামারির দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজনকে দুই ছাত্রীর চুল ধরে টানতে, চড়-থাপ্পড় মারতে ও জুতাপেটা করতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রী জানান, তাঁরা কলেজে নিরাপদ পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের বোনের
অভিযুক্ত ছাত্রীর বড় বোন নাসরিন আক্তার হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ছোট বোনের নামে বদনাম করায় ওই দুই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
তদন্ত কমিটি গঠন, নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন
গত ১৭ অক্টোবর নিরাপত্তা চেয়ে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন দুই ছাত্রী।
ইউএনও মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যর্থ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউএনও ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 























