ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

রংপুরে ৪ খুন: মুচলেকায় আসামি সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে ছেড়ে দিল ডিবি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:২৭:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ সময় দেখুন

রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয় থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে সন্ধ্যার পর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাড়ে ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তের প্রয়োজনে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তারা তদন্তে সহযোগিতা করবেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ডিবি কার্যালয়ে হাজির হবেন—এমন প্রতিশ্রুতিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

রংপুর মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলার তদন্তের প্রয়োজনে তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার ছিল। তাদের মোবাইল ফোনে এবং গোয়েন্দা সদস্যদের মাধ্যমে একাধিকবার ডাকা হলেও তারা হাজির হননি। এ কারণে তাদের আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আসছে বৃহস্পতিবার

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাদের আবারও ডাকা হতে পারে।

‘কোনো ধরনের টর্চার করা হয়নি’

ডিবি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় পার্থ দাসকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে তাকে কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত করা হয়নি।

পার্থ দাসের ভাষ্য, তাকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বিভিন্নভাবে ধরা না দেওয়ার চেষ্টা করায় তার পায়ে আঘাত লাগে। এ কারণে তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। ডিবি কার্যালয়ে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ৬৪ জেলায় মন্ত্রীদের বিশেষ দায়িত্ব

সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস বলেন, ধরে আনার সময় তারা আতঙ্কিত ছিলেন। তবে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর তাদের সেই আতঙ্ক কেটে যায়। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তারা প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চারজনকে হত্যার অভিযোগ

গত ২২ আগস্ট ভোররাতে রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়ম।

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর গণপতি চক্রবর্তীর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ২৩ আগস্ট ভোররাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিনই রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জবানবন্দিতে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন।

আরও পড়ুনঃ  শেরপুর সীমান্তে দুই অভিযানে ১০ লাখ টাকার বেশি ভারতীয় মদ জব্দ

তদন্তে আরও দুজনের জবানবন্দি

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর আরেক প্রতিবেশী সীমান্ত দাস এবং দুখিগঞ্জ শ্মশানের পাহারাদার বিদ্যুৎ দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা ৩৫টি বস্তু ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পাশাপাশি আসামিদের ডিএনএ ও ডোপ টেস্টও করা হবে।

বিচারের দাবিতে আন্দোলন

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে রংপুরে প্রতিদিনই আন্দোলন হচ্ছে। এরই মধ্যে আইনজীবী সমিতি আসামিদের পক্ষে মামলা না লড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদ ও ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

রংপুরে ৪ খুন: মুচলেকায় আসামি সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে ছেড়ে দিল ডিবি

আপডেটের সময়: ১০:২৭:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয় থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে সন্ধ্যার পর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাড়ে ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তের প্রয়োজনে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তারা তদন্তে সহযোগিতা করবেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ডিবি কার্যালয়ে হাজির হবেন—এমন প্রতিশ্রুতিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

রংপুর মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলার তদন্তের প্রয়োজনে তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার ছিল। তাদের মোবাইল ফোনে এবং গোয়েন্দা সদস্যদের মাধ্যমে একাধিকবার ডাকা হলেও তারা হাজির হননি। এ কারণে তাদের আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

আরও পড়ুনঃ  মেসিদের লিগে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাদের আবারও ডাকা হতে পারে।

‘কোনো ধরনের টর্চার করা হয়নি’

ডিবি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় পার্থ দাসকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে তাকে কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত করা হয়নি।

পার্থ দাসের ভাষ্য, তাকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বিভিন্নভাবে ধরা না দেওয়ার চেষ্টা করায় তার পায়ে আঘাত লাগে। এ কারণে তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। ডিবি কার্যালয়ে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আসছে বৃহস্পতিবার

সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস বলেন, ধরে আনার সময় তারা আতঙ্কিত ছিলেন। তবে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর তাদের সেই আতঙ্ক কেটে যায়। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তারা প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চারজনকে হত্যার অভিযোগ

গত ২২ আগস্ট ভোররাতে রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়ম।

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর গণপতি চক্রবর্তীর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ২৩ আগস্ট ভোররাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিনই রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জবানবন্দিতে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন।

আরও পড়ুনঃ  ৬৪ জেলায় মন্ত্রীদের বিশেষ দায়িত্ব

তদন্তে আরও দুজনের জবানবন্দি

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর আরেক প্রতিবেশী সীমান্ত দাস এবং দুখিগঞ্জ শ্মশানের পাহারাদার বিদ্যুৎ দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা ৩৫টি বস্তু ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পাশাপাশি আসামিদের ডিএনএ ও ডোপ টেস্টও করা হবে।

বিচারের দাবিতে আন্দোলন

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে রংপুরে প্রতিদিনই আন্দোলন হচ্ছে। এরই মধ্যে আইনজীবী সমিতি আসামিদের পক্ষে মামলা না লড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদ ও ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।