ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর প্রবেশের সময় আরও এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ছাত্রীরা হলে প্রবেশ করতে পারবেন। এতদিন রাত ১০টার পর ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধ হয়ে যেত।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট ছাত্রী হলগুলোর প্রবেশের সময় রাত ১০টা থেকে বাড়িয়ে ১১টা করার সুপারিশ করেছিল প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি। পরে সিন্ডিকেটের সভায় সেই সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ছাত্রীদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনরত ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’, ‘নারী হল সংস্কার আন্দোলন’ ও ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মের আন্দোলনকারীরা। সিন্ডিকেটের সভা চলাকালেও তারা নিজেদের দাবির পক্ষে কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শুধু এক ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে ছাত্রী হলের ‘সান্ধ্য আইন’-সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাদের দাবি, রাত ১১টার পরও অনুমতি বা ‘লেট গেট’-এর মতো আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু থাকলে জরুরি চিকিৎসা, রাতে যাতায়াত, টিউশনি, চাকরি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে।
গত ৩০ আগস্ট তিনটি প্ল্যাটফর্ম যৌথভাবে তিন দফা দাবি জানিয়েছিল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ছাত্রীদের সার্বক্ষণিক যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্ধারিত সময়ের পর হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক হয়রানি বন্ধ করা এবং বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে যেকোনো ছাত্রীকে হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া।
এ ছাড়া নারী স্বজনদের পরিচয়পত্র যাচাই করে হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় ছাত্রীদের দাবির সঙ্গে প্রশাসন নীতিগতভাবে একমত। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও বাস্তবতার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তিনি জানান, জরুরি চিকিৎসা এবং অভিভাবকদের হলে প্রবেশের মতো বিষয়ে জটিলতা এড়াতে ইতোমধ্যে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে একটি কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি আইসিটি সেলের নির্দেশনায় ছাত্রীদের প্রবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পাঞ্চ কার্ড ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ছাত্রীদের হলে ফেরার সময় এক ঘণ্টা বাড়লেও, সার্বক্ষণিক যাতায়াত ও লেট গেট ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















