
ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী বজলুর রশীদ ও মনোহর আলীর মরদেহ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে পৌঁছেছে। গতকাল শনিবার (২০ জুন) বিকেলে মরদেহ দুটি তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
বিকেল সাড়ে ৪টায় বজলুর রশীদের এবং সাড়ে ৫টায় মনোহর আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার সন্ধানে মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে ইরাকে যান। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। গত ২৫ মে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তাদের মরদেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
নিহত বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, জীবনের উন্নতির আশায় বিদেশে গিয়েছিল তার ভাই। কিন্তু পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে কফিনবন্দি হয়ে। এই শোক কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
অন্যদিকে মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার জানান, ঋণ করে বিদেশে যাওয়া তার স্বামীর মৃত্যু পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং বকেয়া ঋণ নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, প্রবাসে এ ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
Arif 



















