ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি অতীত ভুলে আমিরাতের সঙ্গে নতুন শুরুর ঘোষণা ইরানের চ্যালেঞ্জার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, সর্বোচ্চ গোলদাতা রিমন মালয়েশিয়ায় যৌথ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৪৭২ বিদেশি আটক জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: ৪৫ বছর পর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ ১২ দিনে দেশে এলো ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স শি জিনপিংয়ের বিশেষ বিমান ও বুলেটপ্রুফ গাড়িতে যেসব সুবিধা লিফট ছেড়ে সিঁড়ি বেয়ে ষষ্ঠ তলায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আমদানি কমিয়ে দেশীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, নোটিশ আরও ১০০টিকে
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যা: প্রতিবছরের ট্র্যাজেডি, সমাধান কোথায়?

বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যা যেন প্রতিবছরের পুনরাবৃত্ত এক বাস্তবতা। বর্ষা এলেই প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং মানবিক সংকটের খবর শিরোনাম হয়। এরপর সরকারি তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ ও সহানুভূতির প্রকাশ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রশ্নটি অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলামের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু প্রাকৃতিক কারণের ফল নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনা।

আরও পড়ুনঃ  স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ পাবে সংবাদমাধ্যম: তথ্যমন্ত্রী

তিনি বলেন, ভূ-তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের পাহাড়গুলো অনেক পুরোনো। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি পাহাড়ের মাটির স্তরে প্রবেশ করে মাটির দৃঢ়তা কমিয়ে দেয়। ফলে পাহাড় সহজেই ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এর সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হলে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তার মতে, পাহাড়ের পাদদেশ সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় স্থানে গাইড ওয়াল বা কংক্রিট প্রতিরোধক নির্মাণ এবং পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ভূমিধসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রশাসনের সদিচ্ছা, কার্যকর তদারকি এবং জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  ২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় ‘মিশরের হালান্ড’ হামজা

জীবনহানি কমাতে পাহাড়ের ঢাল, চূড়া ও পাদদেশে বসতি স্থাপনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরকারি উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পাহাড়ি এলাকায় বসতি বা কৃষিকাজের অনুমতি দেওয়া হয়। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা অপসারণ জরুরি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু আবাসন নয়, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে, যা শিশুদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

আরও পড়ুনঃ  নবম পে-স্কেলের গেজেট কবে, ২০ গ্রেডে কার বেতন কত?

এবারের দুর্যোগে পাহাড়ধসের পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতিও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণই হতে পারে এই পুনরাবৃত্ত দুর্যোগের কার্যকর সমাধান।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যা: প্রতিবছরের ট্র্যাজেডি, সমাধান কোথায়?

আপডেটের সময়: ০৯:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যা যেন প্রতিবছরের পুনরাবৃত্ত এক বাস্তবতা। বর্ষা এলেই প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং মানবিক সংকটের খবর শিরোনাম হয়। এরপর সরকারি তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ ও সহানুভূতির প্রকাশ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রশ্নটি অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলামের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু প্রাকৃতিক কারণের ফল নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনা।

আরও পড়ুনঃ  স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ পাবে সংবাদমাধ্যম: তথ্যমন্ত্রী

তিনি বলেন, ভূ-তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের পাহাড়গুলো অনেক পুরোনো। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি পাহাড়ের মাটির স্তরে প্রবেশ করে মাটির দৃঢ়তা কমিয়ে দেয়। ফলে পাহাড় সহজেই ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এর সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হলে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তার মতে, পাহাড়ের পাদদেশ সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় স্থানে গাইড ওয়াল বা কংক্রিট প্রতিরোধক নির্মাণ এবং পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ভূমিধসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রশাসনের সদিচ্ছা, কার্যকর তদারকি এবং জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  নবম পে-স্কেলের গেজেট কবে, ২০ গ্রেডে কার বেতন কত?

জীবনহানি কমাতে পাহাড়ের ঢাল, চূড়া ও পাদদেশে বসতি স্থাপনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরকারি উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পাহাড়ি এলাকায় বসতি বা কৃষিকাজের অনুমতি দেওয়া হয়। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা অপসারণ জরুরি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু আবাসন নয়, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে, যা শিশুদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

আরও পড়ুনঃ  ২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় ‘মিশরের হালান্ড’ হামজা

এবারের দুর্যোগে পাহাড়ধসের পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতিও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণই হতে পারে এই পুনরাবৃত্ত দুর্যোগের কার্যকর সমাধান।