ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, এডিটরস কাউন্সিল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক তিন শর্তে পুনরায় লাইসেন্স পেল আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার রায় আজ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমতেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধস ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না থাকলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা, ৮ শিশুসহ নিহত অন্তত ৩০ টানা তৃতীয় দিন থেমে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত, কূটনৈতিক সমাধানের নতুন আশা বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস আজ: দেশে বছরে প্রাণ হারান ২০ হাজার মানুষ, সর্বজনীন স্ক্রিনিং ও টিকাদানের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের এক দশকের অপেক্ষার অবসান, আনোয়ারায় শুরু ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ-চীন শিল্পাঞ্চলের নির্মাণ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বস্তি: কুড়িগ্রামে ৭ দিনের পরিকল্পিত লোডশেডিং স্থগিত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যা: প্রতিবছরের ট্র্যাজেডি, সমাধান কোথায়?

বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যা যেন প্রতিবছরের পুনরাবৃত্ত এক বাস্তবতা। বর্ষা এলেই প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং মানবিক সংকটের খবর শিরোনাম হয়। এরপর সরকারি তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ ও সহানুভূতির প্রকাশ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রশ্নটি অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলামের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু প্রাকৃতিক কারণের ফল নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনা।

আরও পড়ুনঃ  নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

তিনি বলেন, ভূ-তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের পাহাড়গুলো অনেক পুরোনো। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি পাহাড়ের মাটির স্তরে প্রবেশ করে মাটির দৃঢ়তা কমিয়ে দেয়। ফলে পাহাড় সহজেই ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এর সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হলে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তার মতে, পাহাড়ের পাদদেশ সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় স্থানে গাইড ওয়াল বা কংক্রিট প্রতিরোধক নির্মাণ এবং পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ভূমিধসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রশাসনের সদিচ্ছা, কার্যকর তদারকি এবং জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  রাজধানীতে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের তথ্য নিবন্ধনে ডিএমপির উদ্যোগ, নিরাপত্তায় জোর

জীবনহানি কমাতে পাহাড়ের ঢাল, চূড়া ও পাদদেশে বসতি স্থাপনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরকারি উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পাহাড়ি এলাকায় বসতি বা কৃষিকাজের অনুমতি দেওয়া হয়। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা অপসারণ জরুরি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু আবাসন নয়, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে, যা শিশুদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

আরও পড়ুনঃ  গাজায় হামাসের ড্রোন ইউনিটের শীর্ষ কমান্ডার নিহতের দাবি ইসরায়েলের

এবারের দুর্যোগে পাহাড়ধসের পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতিও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণই হতে পারে এই পুনরাবৃত্ত দুর্যোগের কার্যকর সমাধান।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, এডিটরস কাউন্সিল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যা: প্রতিবছরের ট্র্যাজেডি, সমাধান কোথায়?

আপডেটের সময়: ০৯:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যা যেন প্রতিবছরের পুনরাবৃত্ত এক বাস্তবতা। বর্ষা এলেই প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং মানবিক সংকটের খবর শিরোনাম হয়। এরপর সরকারি তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ ও সহানুভূতির প্রকাশ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রশ্নটি অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলামের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু প্রাকৃতিক কারণের ফল নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনা।

আরও পড়ুনঃ  গাজায় হামাসের ড্রোন ইউনিটের শীর্ষ কমান্ডার নিহতের দাবি ইসরায়েলের

তিনি বলেন, ভূ-তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের পাহাড়গুলো অনেক পুরোনো। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি পাহাড়ের মাটির স্তরে প্রবেশ করে মাটির দৃঢ়তা কমিয়ে দেয়। ফলে পাহাড় সহজেই ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এর সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হলে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তার মতে, পাহাড়ের পাদদেশ সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় স্থানে গাইড ওয়াল বা কংক্রিট প্রতিরোধক নির্মাণ এবং পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ভূমিধসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রশাসনের সদিচ্ছা, কার্যকর তদারকি এবং জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  আইসিসির পরোয়ানা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহু, ট্রাম্পের সঙ্গে সপ্তম বৈঠক

জীবনহানি কমাতে পাহাড়ের ঢাল, চূড়া ও পাদদেশে বসতি স্থাপনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরকারি উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পাহাড়ি এলাকায় বসতি বা কৃষিকাজের অনুমতি দেওয়া হয়। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা অপসারণ জরুরি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু আবাসন নয়, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে, যা শিশুদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

আরও পড়ুনঃ  একরামুল হত্যা: হাসিনা-বেনজীরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

এবারের দুর্যোগে পাহাড়ধসের পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতিও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণই হতে পারে এই পুনরাবৃত্ত দুর্যোগের কার্যকর সমাধান।