ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে হত্যা আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ ও নবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত প্রক্সি দিয়ে লিখিত-মৌখিক পরীক্ষা, যোগদান করতে এসে ধরা একাদশ শ্রেণিতে যেসব কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা ম্যানসিটি ছেড়ে পর্তুগালে গেলেন আর্জেন্টাইন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে প্রায় কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ ২ মাস পর দেশে ফিরলেন শাকিব খান মেধাবীদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ: শিক্ষামন্ত্রী
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

জব্দ করা পচনশীল খাদ্যশস্য থানায় রেখে নষ্ট করার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:১৮:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

মজুতদারির অভিযোগে জব্দ করা পচনশীল খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন থানায় ফেলে রেখে নষ্ট করার কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে পচনশীল ভোগ্যপণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা এভাবে পুলিশ হেফাজতে রাখার কোনো যুক্তিসংগত উদ্দেশ্য নেই।

নওগাঁয় মজুতদারির অভিযোগে জব্দ করা ২৫ টন চালের মালিকানা নিয়ে নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি রিভিশনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।

‘মো. শিবলু হোসেন বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় গত ১৯ আগস্ট বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মো. খায়রুল আলম।

এক বছরের বেশি সময় থানায় পড়ে ছিল চাল

রায়ে আদালত বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জব্দ করা চাল থানার হেফাজতে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পচনশীল ভোগ্যপণ্য এভাবে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার কোনো যুক্তিসংগত উদ্দেশ্য নেই। এতে রাষ্ট্র বা ব্যক্তি—কারও কোনো লাভ হয় না।

আদালত নওগাঁয় জব্দ করা ২৫ টন চালের প্রয়োজনীয় নমুনা সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট চাল ১৫ লাখ টাকার বন্ডে আবেদনকারী শিবলু হোসেনের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুনঃ  গুমের বিচার ও জবাবদিহিতে বিশ্ব ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যেভাবে জব্দ করা হয় চাল

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. জাহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ২৫ হাজার কেজি বা ২৫ মেট্রিক টন কাটারি আতপ চাল উদ্ধার করা হয়।

৫০০ বস্তায় থাকা ওই চালের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ১৫ লাখ টাকা।

পরদিন ৪ জুলাই বদলগাছী থানায় ‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩’-এর ৩(ঘ) ও ৪ ধারায় শিবলু হোসেন ও জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

পরে মামলাটি নওগাঁর তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত চলাকালে শিবলু হোসেন জব্দ করা চালের প্রকৃত মালিক দাবি করে তা নিজের জিম্মায় দেওয়ার আবেদন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে শিবলু হোসেনকে জব্দ করা চালের প্রকৃত মালিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ওই প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও ২২ জুলাই চালের জিম্মা চেয়ে করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন আদালত। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে করা রিভিশনও খারিজ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্তের সংখ্যা ছাড়াল ১৯ হাজার

এরপর ১৩ নভেম্বর শিবলু হোসেন পুনরায় চালের জিম্মা চেয়ে আবেদন করেন। একই দিন আবেদনটি খারিজ হলে তিনি অধস্তন আদালতের আদেশ বাতিল এবং চাল নিজের জিম্মায় পাওয়ার জন্য হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন করেন।

আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে গত ১৯ আগস্ট সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।

আলামত হিসেবে যতটুকু প্রয়োজন, শুধু ততটুকু সংরক্ষণ

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জব্দ করা চাল দীর্ঘদিন পুলিশ হেফাজতে থাকায় নষ্ট হয়ে মানুষের ভোগের অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এভাবে চাল পুলিশ হেফাজতে রেখে দিলে কোনো কার্যকর উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩’-এর ১১ ধারার বিধান বিশ্লেষণ করে আদালত বলেন, জব্দ করা খাদ্যশস্য পচনশীল হোক বা অপচনশীল—আলামত হিসেবে প্রমাণের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, শুধু সেই পরিমাণ নমুনা সংরক্ষণ করতে হবে।

অবশিষ্ট খাদ্যশস্য দ্রুত প্রকাশ্যে নিলাম বা আইনসম্মত উপায়ে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

রায়ে আরও বলা হয়, আইনের ১১(৩) ধারা অনুযায়ী, বিচার শেষে অপরাধ প্রমাণিত হলে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। আর অপরাধ প্রমাণিত না হলে তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  হরমুজে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের দাবি নাকচ তেহরানের

১৫ লাখ টাকার বন্ডে চাল হস্তান্তরের নির্দেশ

আদালত বলেন, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই চাল জব্দ করা হলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ ছাড়া এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তা থানার হেফাজতে রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পুলিশ হেফাজতে থাকার কারণে চাল নষ্ট হয়ে মানুষের ভোগের অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় চাল এভাবে পুলিশের হেফাজতে রেখে কোনো কার্যকর উদ্দেশ্য পূরণ হবে না বলে অভিমত দেন হাইকোর্ট।

আদালত সংশ্লিষ্ট সেশন আদালতকে নির্দেশ দেন, জব্দ করা চালের কেবল প্রয়োজনীয় পরিমাণ সাক্ষ্যপ্রমাণের জন্য নমুনা হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। অবশিষ্ট চাল আবেদনকারী মো. শিবলু হোসেনের কাছে ১৫ লাখ টাকার বন্ড সম্পাদনের শর্তে হস্তান্তর করতে হবে।

রায়ে বলা হয়, বিচার শেষে শিবলু হোসেনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে ১৫ লাখ টাকার বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। আর অপরাধ প্রমাণিত না হলে ওই বন্ড বা জামানত বাতিল বলে গণ্য হবে।

রায় ঘোষণার সময় আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মির্জা আল মাহমুদ ও মো. মাসুদুল আলম দোহা।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জব্দ করা পচনশীল খাদ্যশস্য থানায় রেখে নষ্ট করার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

আপডেটের সময়: ১০:১৮:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মজুতদারির অভিযোগে জব্দ করা পচনশীল খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন থানায় ফেলে রেখে নষ্ট করার কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে পচনশীল ভোগ্যপণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা এভাবে পুলিশ হেফাজতে রাখার কোনো যুক্তিসংগত উদ্দেশ্য নেই।

নওগাঁয় মজুতদারির অভিযোগে জব্দ করা ২৫ টন চালের মালিকানা নিয়ে নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি রিভিশনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।

‘মো. শিবলু হোসেন বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় গত ১৯ আগস্ট বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মো. খায়রুল আলম।

এক বছরের বেশি সময় থানায় পড়ে ছিল চাল

রায়ে আদালত বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জব্দ করা চাল থানার হেফাজতে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পচনশীল ভোগ্যপণ্য এভাবে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার কোনো যুক্তিসংগত উদ্দেশ্য নেই। এতে রাষ্ট্র বা ব্যক্তি—কারও কোনো লাভ হয় না।

আদালত নওগাঁয় জব্দ করা ২৫ টন চালের প্রয়োজনীয় নমুনা সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট চাল ১৫ লাখ টাকার বন্ডে আবেদনকারী শিবলু হোসেনের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই সনদ ঘিরে মুখোমুখি সরকার-বিরোধী দল, রাজপথেও কর্মসূচির প্রস্তুতি

যেভাবে জব্দ করা হয় চাল

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. জাহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ২৫ হাজার কেজি বা ২৫ মেট্রিক টন কাটারি আতপ চাল উদ্ধার করা হয়।

৫০০ বস্তায় থাকা ওই চালের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ১৫ লাখ টাকা।

পরদিন ৪ জুলাই বদলগাছী থানায় ‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩’-এর ৩(ঘ) ও ৪ ধারায় শিবলু হোসেন ও জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

পরে মামলাটি নওগাঁর তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত চলাকালে শিবলু হোসেন জব্দ করা চালের প্রকৃত মালিক দাবি করে তা নিজের জিম্মায় দেওয়ার আবেদন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে শিবলু হোসেনকে জব্দ করা চালের প্রকৃত মালিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ওই প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও ২২ জুলাই চালের জিম্মা চেয়ে করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন আদালত। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে করা রিভিশনও খারিজ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  গুমের বিচার ও জবাবদিহিতে বিশ্ব ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এরপর ১৩ নভেম্বর শিবলু হোসেন পুনরায় চালের জিম্মা চেয়ে আবেদন করেন। একই দিন আবেদনটি খারিজ হলে তিনি অধস্তন আদালতের আদেশ বাতিল এবং চাল নিজের জিম্মায় পাওয়ার জন্য হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন করেন।

আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে গত ১৯ আগস্ট সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।

আলামত হিসেবে যতটুকু প্রয়োজন, শুধু ততটুকু সংরক্ষণ

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জব্দ করা চাল দীর্ঘদিন পুলিশ হেফাজতে থাকায় নষ্ট হয়ে মানুষের ভোগের অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এভাবে চাল পুলিশ হেফাজতে রেখে দিলে কোনো কার্যকর উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩’-এর ১১ ধারার বিধান বিশ্লেষণ করে আদালত বলেন, জব্দ করা খাদ্যশস্য পচনশীল হোক বা অপচনশীল—আলামত হিসেবে প্রমাণের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, শুধু সেই পরিমাণ নমুনা সংরক্ষণ করতে হবে।

অবশিষ্ট খাদ্যশস্য দ্রুত প্রকাশ্যে নিলাম বা আইনসম্মত উপায়ে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

রায়ে আরও বলা হয়, আইনের ১১(৩) ধারা অনুযায়ী, বিচার শেষে অপরাধ প্রমাণিত হলে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। আর অপরাধ প্রমাণিত না হলে তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  হরমুজে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের দাবি নাকচ তেহরানের

১৫ লাখ টাকার বন্ডে চাল হস্তান্তরের নির্দেশ

আদালত বলেন, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই চাল জব্দ করা হলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ ছাড়া এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তা থানার হেফাজতে রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পুলিশ হেফাজতে থাকার কারণে চাল নষ্ট হয়ে মানুষের ভোগের অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় চাল এভাবে পুলিশের হেফাজতে রেখে কোনো কার্যকর উদ্দেশ্য পূরণ হবে না বলে অভিমত দেন হাইকোর্ট।

আদালত সংশ্লিষ্ট সেশন আদালতকে নির্দেশ দেন, জব্দ করা চালের কেবল প্রয়োজনীয় পরিমাণ সাক্ষ্যপ্রমাণের জন্য নমুনা হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। অবশিষ্ট চাল আবেদনকারী মো. শিবলু হোসেনের কাছে ১৫ লাখ টাকার বন্ড সম্পাদনের শর্তে হস্তান্তর করতে হবে।

রায়ে বলা হয়, বিচার শেষে শিবলু হোসেনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে ১৫ লাখ টাকার বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। আর অপরাধ প্রমাণিত না হলে ওই বন্ড বা জামানত বাতিল বলে গণ্য হবে।

রায় ঘোষণার সময় আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মির্জা আল মাহমুদ ও মো. মাসুদুল আলম দোহা।