ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দিল্লিতে ডা. জাহেদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব প্রিয় দলের জার্সি পরে খেলা দেখায় কেন বাড়ে আবেগ? লিবিয়া হয়ে অবৈধ প্রবেশে কড়াকড়ি, সতর্ক করল ইতালি দূতাবাস গাইবান্ধার হত্যা মামলার প্রধান আসামি রংপুরে গ্রেফতার জানুন বাস্তব টিভি আয়ু ও নষ্ট হওয়ার কারণ মন্ত্রীর কাছে টাকা নিয়ে ঘুরেছি—এ দাবি সত্য নয়: আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহিউদ্দিন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য সাংবাদিকদের দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় রায় নিয়ে আপিল শুনানির প্রস্তুতি
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

জয়ের বিশ্বাসই অবিশ্বাস্য জয়ের কাছে নিয়েছিল বাংলাদেশকে

  • arif
  • আপডেটের সময়: ১২:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ১৭ সময় দেখুন

৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে অভাবনীয় এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত যদিও ধরা দেয়নি জয়।
জয়ের বিশ্বাসই অবিশ্বাস্য জয়ের কাছে নিয়েছিল বাংলাদেশকে

দর্শকদের অনেকে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন ম্যাচ শেষের বেশ আগেই। ম্যাচে তেমন উত্তেজনাই যে ছিল না! সহজ জয়ের পথে ছিল অস্ট্রেলিয়া। দেড়শ রানের পথে ছিলেন কুপার কনোলি। কিন্তু যারা আগে ফিরে গেছেন, তারা নিশ্চয়ই পড়ে আফসোসে পুড়েছেন। টানটান উত্তেজনার ধ্রুপদি এক লড়াইয়ে স্বাক্ষী তারা হতে পারলেন না!

৪৫তম ওভারে কুপার কনোলি যখন টানা তিনটি ছক্কা মারলেন তাসকিন আহমেদকে, ম্যাচ তখন প্রাণ তেমন একটা ছিল না। ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল মোটে ৯ রান, উইকেট অক্ষত ছিল ৫টি। কনোলি ও অলিভার পিকের জুটি তখনও জমাট। সাধারণ হিসাব বলবে, ম্যাচে তখন কেবল আনুষ্ঠানিকতাই বাকি।

তবে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা’ কথাটি অতি ক্লিশে হলেও আদতে যে কতটা সত্যি, সেটি অনেকসময়ই মনে করিয়ে দেয় ক্রিকেট। এই দিনটিতে যেমন হলো!

আরও পড়ুনঃ  অভিনয়ে ফিরছেন ক্যাটরিনা, এবার নজর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে

শরিফুল ইসলাম যখন পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জেভিয়ার বার্টলেটকে ফেরালেন, তখনও এতটা নাটকের কথা ভাবা যায়নি। মনে হচ্ছিল, স্রেফ শেষের আগে একটু রোমাঞ্চ ফিরল।

মুস্তাফিজুর রহমান যখন বেন ডোয়ার্শাসের ক্যাচ নিতে পারলেন না, আফসোস বাড়ল একটু। তখনও জয়ের আশা ততটা তীব্র নয়।

কিন্তু শরিফুল যখন সেই ডোয়ার্শিসকে ফিরিয়ে ষষ্ঠ শিকার ধরলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা সত্যিকার অর্থেই জেরগ উঠল তখন। একটু আগেও মিইয়ে থাকা ততক্ষণে গ্যালারি ততক্ষণে উত্তাল হয়ে প্রেরণা জোগাচ্ছে দলকে।

দুই বল পর অ্যাডাম জ্যাম্পার ক্যাচ যখন তানজিদ হাসানের হাত ফসকে গেল, দর্শকের আক্ষেপের সুর যেন তীব্র হাহাকারের ঢেউ হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে।

তবে বাংলাদেশ তখনও হাল ছাড়েনি। দল তখনও বিশ্বাস হারায়নি।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী নিযুক্ত হলেন অ্যাঙ্গেলা ইগল

শরিফুলের সাত উইকেট হলো না। ১০ ওভারের কোটাও শেষ হয়ে গেল। তার পরও নতুন আশার সূর্য উঁকি দিল, যখন মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আলগা শটে উইকেট হারালেন কনোলি।

১৩৪ বলে ১৪৯ রান করা ব্যাটসম্যান অত বাইরের বল টেনে আউট হতে পারেন, অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেননি। কনোলি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। বোল্ড হওয়ার পর মাঠেই দাঁড়িয়ে থেকে বড় পর্দায় রিপ্লে দেখলেন। তার পর অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে মাঠ ছাড়লেন।

খালি চোখে ওটা বাজে শট। আদতে, প্রবল চাপের মধ্যে এসবই তো হয়!

অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন তখন চার রান, বাংলাদেশের ১ উইকেট।

বাংলাদেশের জন্য জরুরি ছিল, মুস্তাফিজের বাকি তিন বলেই শেষ উইকেটটি আদায় করা। কিন্তু রাইলি মেরেডিথ কাটিয়ে দিলেন ওভারটি। বাংলাদেশের আশাও তাতে দমে গেল কিছুটা। শেষ ওভারটি করবেন যিনি, সেই তাসকিন যে এ দিন ছন্দে ছিলেন না!

আরও পড়ুনঃ  চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির সামনে আন্ডারডগ কুরাসাও

শেষ পর্যন্ত শেষের শঙ্কাই সত্যি হলো। তাসকিন পারলেন না দলকে জেতাতে। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা হলো না আপাতত।

আগের ম্যাচে আঘাত পাওয়ায় এই ম্যাচটি না খেলা মেহেদী হাসান মিরাজ এই উত্তেজনার সঙ্গী হয়েছেন ডাগআউট থেকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক পরে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, হারার আগে না হারার বিশ্বাসই দলকে নিয়ে গিয়েছিল জয়ের কাছে।

“মোমেন্টাম একবার ওদের কাছে যাচ্ছিল, একবার আমাদের কাছে আসছিল। ক্রিকেট খেলায় এটাই হয়ে থাকে। যারা সুযোগ কম দেবে, তাদেরই ম্যাচ জেতার চান্স থাকে। আমরা একটা সময় ওদেরকে সুযোগ দিয়েছি, ওরা সুযোগটা নিয়েছে। আবার আমরা যখন ভালো জায়গায় বল করেছি, উইকেট নিয়েছি, তখন আমরা আবার ওদেরকে চাপে ফেলিয়েছি।”

“কাজেই মোমেন্টাম এরকমই ছিল, তবে বিশ্বাস ছিল সবার, যে ম্যাচটা জিততে পারব। হয়তো এজন্য অনেক ক্লোজে গিয়েছে ম্যাচ।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দিল্লিতে ডা. জাহেদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব

জয়ের বিশ্বাসই অবিশ্বাস্য জয়ের কাছে নিয়েছিল বাংলাদেশকে

আপডেটের সময়: ১২:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে অভাবনীয় এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত যদিও ধরা দেয়নি জয়।
জয়ের বিশ্বাসই অবিশ্বাস্য জয়ের কাছে নিয়েছিল বাংলাদেশকে

দর্শকদের অনেকে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন ম্যাচ শেষের বেশ আগেই। ম্যাচে তেমন উত্তেজনাই যে ছিল না! সহজ জয়ের পথে ছিল অস্ট্রেলিয়া। দেড়শ রানের পথে ছিলেন কুপার কনোলি। কিন্তু যারা আগে ফিরে গেছেন, তারা নিশ্চয়ই পড়ে আফসোসে পুড়েছেন। টানটান উত্তেজনার ধ্রুপদি এক লড়াইয়ে স্বাক্ষী তারা হতে পারলেন না!

৪৫তম ওভারে কুপার কনোলি যখন টানা তিনটি ছক্কা মারলেন তাসকিন আহমেদকে, ম্যাচ তখন প্রাণ তেমন একটা ছিল না। ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল মোটে ৯ রান, উইকেট অক্ষত ছিল ৫টি। কনোলি ও অলিভার পিকের জুটি তখনও জমাট। সাধারণ হিসাব বলবে, ম্যাচে তখন কেবল আনুষ্ঠানিকতাই বাকি।

তবে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা’ কথাটি অতি ক্লিশে হলেও আদতে যে কতটা সত্যি, সেটি অনেকসময়ই মনে করিয়ে দেয় ক্রিকেট। এই দিনটিতে যেমন হলো!

আরও পড়ুনঃ  বড় বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান এফবিসিসিআই-এর

শরিফুল ইসলাম যখন পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জেভিয়ার বার্টলেটকে ফেরালেন, তখনও এতটা নাটকের কথা ভাবা যায়নি। মনে হচ্ছিল, স্রেফ শেষের আগে একটু রোমাঞ্চ ফিরল।

মুস্তাফিজুর রহমান যখন বেন ডোয়ার্শাসের ক্যাচ নিতে পারলেন না, আফসোস বাড়ল একটু। তখনও জয়ের আশা ততটা তীব্র নয়।

কিন্তু শরিফুল যখন সেই ডোয়ার্শিসকে ফিরিয়ে ষষ্ঠ শিকার ধরলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা সত্যিকার অর্থেই জেরগ উঠল তখন। একটু আগেও মিইয়ে থাকা ততক্ষণে গ্যালারি ততক্ষণে উত্তাল হয়ে প্রেরণা জোগাচ্ছে দলকে।

দুই বল পর অ্যাডাম জ্যাম্পার ক্যাচ যখন তানজিদ হাসানের হাত ফসকে গেল, দর্শকের আক্ষেপের সুর যেন তীব্র হাহাকারের ঢেউ হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে।

তবে বাংলাদেশ তখনও হাল ছাড়েনি। দল তখনও বিশ্বাস হারায়নি।

আরও পড়ুনঃ  অভিনয়ে ফিরছেন ক্যাটরিনা, এবার নজর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে

শরিফুলের সাত উইকেট হলো না। ১০ ওভারের কোটাও শেষ হয়ে গেল। তার পরও নতুন আশার সূর্য উঁকি দিল, যখন মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আলগা শটে উইকেট হারালেন কনোলি।

১৩৪ বলে ১৪৯ রান করা ব্যাটসম্যান অত বাইরের বল টেনে আউট হতে পারেন, অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেননি। কনোলি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। বোল্ড হওয়ার পর মাঠেই দাঁড়িয়ে থেকে বড় পর্দায় রিপ্লে দেখলেন। তার পর অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে মাঠ ছাড়লেন।

খালি চোখে ওটা বাজে শট। আদতে, প্রবল চাপের মধ্যে এসবই তো হয়!

অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন তখন চার রান, বাংলাদেশের ১ উইকেট।

বাংলাদেশের জন্য জরুরি ছিল, মুস্তাফিজের বাকি তিন বলেই শেষ উইকেটটি আদায় করা। কিন্তু রাইলি মেরেডিথ কাটিয়ে দিলেন ওভারটি। বাংলাদেশের আশাও তাতে দমে গেল কিছুটা। শেষ ওভারটি করবেন যিনি, সেই তাসকিন যে এ দিন ছন্দে ছিলেন না!

আরও পড়ুনঃ  প্রশাসনে একযোগে রদবদল, ৯ যুগ্ম-সচিব বদলি ও ২ জনকে নতুন দায়িত্ব

শেষ পর্যন্ত শেষের শঙ্কাই সত্যি হলো। তাসকিন পারলেন না দলকে জেতাতে। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা হলো না আপাতত।

আগের ম্যাচে আঘাত পাওয়ায় এই ম্যাচটি না খেলা মেহেদী হাসান মিরাজ এই উত্তেজনার সঙ্গী হয়েছেন ডাগআউট থেকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক পরে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, হারার আগে না হারার বিশ্বাসই দলকে নিয়ে গিয়েছিল জয়ের কাছে।

“মোমেন্টাম একবার ওদের কাছে যাচ্ছিল, একবার আমাদের কাছে আসছিল। ক্রিকেট খেলায় এটাই হয়ে থাকে। যারা সুযোগ কম দেবে, তাদেরই ম্যাচ জেতার চান্স থাকে। আমরা একটা সময় ওদেরকে সুযোগ দিয়েছি, ওরা সুযোগটা নিয়েছে। আবার আমরা যখন ভালো জায়গায় বল করেছি, উইকেট নিয়েছি, তখন আমরা আবার ওদেরকে চাপে ফেলিয়েছি।”

“কাজেই মোমেন্টাম এরকমই ছিল, তবে বিশ্বাস ছিল সবার, যে ম্যাচটা জিততে পারব। হয়তো এজন্য অনেক ক্লোজে গিয়েছে ম্যাচ।”