
৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে অভাবনীয় এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত যদিও ধরা দেয়নি জয়।
জয়ের বিশ্বাসই অবিশ্বাস্য জয়ের কাছে নিয়েছিল বাংলাদেশকে
দর্শকদের অনেকে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন ম্যাচ শেষের বেশ আগেই। ম্যাচে তেমন উত্তেজনাই যে ছিল না! সহজ জয়ের পথে ছিল অস্ট্রেলিয়া। দেড়শ রানের পথে ছিলেন কুপার কনোলি। কিন্তু যারা আগে ফিরে গেছেন, তারা নিশ্চয়ই পড়ে আফসোসে পুড়েছেন। টানটান উত্তেজনার ধ্রুপদি এক লড়াইয়ে স্বাক্ষী তারা হতে পারলেন না!
৪৫তম ওভারে কুপার কনোলি যখন টানা তিনটি ছক্কা মারলেন তাসকিন আহমেদকে, ম্যাচ তখন প্রাণ তেমন একটা ছিল না। ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল মোটে ৯ রান, উইকেট অক্ষত ছিল ৫টি। কনোলি ও অলিভার পিকের জুটি তখনও জমাট। সাধারণ হিসাব বলবে, ম্যাচে তখন কেবল আনুষ্ঠানিকতাই বাকি।
তবে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা’ কথাটি অতি ক্লিশে হলেও আদতে যে কতটা সত্যি, সেটি অনেকসময়ই মনে করিয়ে দেয় ক্রিকেট। এই দিনটিতে যেমন হলো!
শরিফুল ইসলাম যখন পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জেভিয়ার বার্টলেটকে ফেরালেন, তখনও এতটা নাটকের কথা ভাবা যায়নি। মনে হচ্ছিল, স্রেফ শেষের আগে একটু রোমাঞ্চ ফিরল।
মুস্তাফিজুর রহমান যখন বেন ডোয়ার্শাসের ক্যাচ নিতে পারলেন না, আফসোস বাড়ল একটু। তখনও জয়ের আশা ততটা তীব্র নয়।
কিন্তু শরিফুল যখন সেই ডোয়ার্শিসকে ফিরিয়ে ষষ্ঠ শিকার ধরলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা সত্যিকার অর্থেই জেরগ উঠল তখন। একটু আগেও মিইয়ে থাকা ততক্ষণে গ্যালারি ততক্ষণে উত্তাল হয়ে প্রেরণা জোগাচ্ছে দলকে।
দুই বল পর অ্যাডাম জ্যাম্পার ক্যাচ যখন তানজিদ হাসানের হাত ফসকে গেল, দর্শকের আক্ষেপের সুর যেন তীব্র হাহাকারের ঢেউ হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে।
তবে বাংলাদেশ তখনও হাল ছাড়েনি। দল তখনও বিশ্বাস হারায়নি।
শরিফুলের সাত উইকেট হলো না। ১০ ওভারের কোটাও শেষ হয়ে গেল। তার পরও নতুন আশার সূর্য উঁকি দিল, যখন মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আলগা শটে উইকেট হারালেন কনোলি।
১৩৪ বলে ১৪৯ রান করা ব্যাটসম্যান অত বাইরের বল টেনে আউট হতে পারেন, অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেননি। কনোলি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। বোল্ড হওয়ার পর মাঠেই দাঁড়িয়ে থেকে বড় পর্দায় রিপ্লে দেখলেন। তার পর অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে মাঠ ছাড়লেন।
খালি চোখে ওটা বাজে শট। আদতে, প্রবল চাপের মধ্যে এসবই তো হয়!
অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন তখন চার রান, বাংলাদেশের ১ উইকেট।
বাংলাদেশের জন্য জরুরি ছিল, মুস্তাফিজের বাকি তিন বলেই শেষ উইকেটটি আদায় করা। কিন্তু রাইলি মেরেডিথ কাটিয়ে দিলেন ওভারটি। বাংলাদেশের আশাও তাতে দমে গেল কিছুটা। শেষ ওভারটি করবেন যিনি, সেই তাসকিন যে এ দিন ছন্দে ছিলেন না!
শেষ পর্যন্ত শেষের শঙ্কাই সত্যি হলো। তাসকিন পারলেন না দলকে জেতাতে। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা হলো না আপাতত।
আগের ম্যাচে আঘাত পাওয়ায় এই ম্যাচটি না খেলা মেহেদী হাসান মিরাজ এই উত্তেজনার সঙ্গী হয়েছেন ডাগআউট থেকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক পরে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, হারার আগে না হারার বিশ্বাসই দলকে নিয়ে গিয়েছিল জয়ের কাছে।
“মোমেন্টাম একবার ওদের কাছে যাচ্ছিল, একবার আমাদের কাছে আসছিল। ক্রিকেট খেলায় এটাই হয়ে থাকে। যারা সুযোগ কম দেবে, তাদেরই ম্যাচ জেতার চান্স থাকে। আমরা একটা সময় ওদেরকে সুযোগ দিয়েছি, ওরা সুযোগটা নিয়েছে। আবার আমরা যখন ভালো জায়গায় বল করেছি, উইকেট নিয়েছি, তখন আমরা আবার ওদেরকে চাপে ফেলিয়েছি।”
“কাজেই মোমেন্টাম এরকমই ছিল, তবে বিশ্বাস ছিল সবার, যে ম্যাচটা জিততে পারব। হয়তো এজন্য অনেক ক্লোজে গিয়েছে ম্যাচ।”
arif 




















