ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঢাকার যানজট কমাতে বড় সিদ্ধান্ত, সরছে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গুলিস্তান বাস টার্মিনাল সরকারি বই পাচারের অভিযোগ, পিকআপ জব্দ; পলাতক মাদ্রাসা সুপার ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, প্রভাব মূল্যায়ন করবে সরকার অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন বুন্দেসলিগা অভিজ্ঞতায় ভর করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু জাপান–নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, আইন ও অর্থে সভাপতি পার্থ ও মুশফিকুর দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইল জামায়াত দুবার পিছিয়েও হার মানেনি জাপান, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে রোমাঞ্চকর ড্র
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

জয়ের বিশ্বাসই অবিশ্বাস্য জয়ের কাছে নিয়েছিল বাংলাদেশকে

  • arif
  • আপডেটের সময়: ১২:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ১৪ সময় দেখুন

৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে অভাবনীয় এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত যদিও ধরা দেয়নি জয়।
জয়ের বিশ্বাসই অবিশ্বাস্য জয়ের কাছে নিয়েছিল বাংলাদেশকে

দর্শকদের অনেকে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন ম্যাচ শেষের বেশ আগেই। ম্যাচে তেমন উত্তেজনাই যে ছিল না! সহজ জয়ের পথে ছিল অস্ট্রেলিয়া। দেড়শ রানের পথে ছিলেন কুপার কনোলি। কিন্তু যারা আগে ফিরে গেছেন, তারা নিশ্চয়ই পড়ে আফসোসে পুড়েছেন। টানটান উত্তেজনার ধ্রুপদি এক লড়াইয়ে স্বাক্ষী তারা হতে পারলেন না!

৪৫তম ওভারে কুপার কনোলি যখন টানা তিনটি ছক্কা মারলেন তাসকিন আহমেদকে, ম্যাচ তখন প্রাণ তেমন একটা ছিল না। ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল মোটে ৯ রান, উইকেট অক্ষত ছিল ৫টি। কনোলি ও অলিভার পিকের জুটি তখনও জমাট। সাধারণ হিসাব বলবে, ম্যাচে তখন কেবল আনুষ্ঠানিকতাই বাকি।

তবে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা’ কথাটি অতি ক্লিশে হলেও আদতে যে কতটা সত্যি, সেটি অনেকসময়ই মনে করিয়ে দেয় ক্রিকেট। এই দিনটিতে যেমন হলো!

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে কোস্টারিকাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড

শরিফুল ইসলাম যখন পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জেভিয়ার বার্টলেটকে ফেরালেন, তখনও এতটা নাটকের কথা ভাবা যায়নি। মনে হচ্ছিল, স্রেফ শেষের আগে একটু রোমাঞ্চ ফিরল।

মুস্তাফিজুর রহমান যখন বেন ডোয়ার্শাসের ক্যাচ নিতে পারলেন না, আফসোস বাড়ল একটু। তখনও জয়ের আশা ততটা তীব্র নয়।

কিন্তু শরিফুল যখন সেই ডোয়ার্শিসকে ফিরিয়ে ষষ্ঠ শিকার ধরলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা সত্যিকার অর্থেই জেরগ উঠল তখন। একটু আগেও মিইয়ে থাকা ততক্ষণে গ্যালারি ততক্ষণে উত্তাল হয়ে প্রেরণা জোগাচ্ছে দলকে।

দুই বল পর অ্যাডাম জ্যাম্পার ক্যাচ যখন তানজিদ হাসানের হাত ফসকে গেল, দর্শকের আক্ষেপের সুর যেন তীব্র হাহাকারের ঢেউ হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে।

তবে বাংলাদেশ তখনও হাল ছাড়েনি। দল তখনও বিশ্বাস হারায়নি।

আরও পড়ুনঃ  তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু: বাংলাদেশের ৫৪ বছরের বাজেট ইতিহাস একনজরে

শরিফুলের সাত উইকেট হলো না। ১০ ওভারের কোটাও শেষ হয়ে গেল। তার পরও নতুন আশার সূর্য উঁকি দিল, যখন মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আলগা শটে উইকেট হারালেন কনোলি।

১৩৪ বলে ১৪৯ রান করা ব্যাটসম্যান অত বাইরের বল টেনে আউট হতে পারেন, অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেননি। কনোলি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। বোল্ড হওয়ার পর মাঠেই দাঁড়িয়ে থেকে বড় পর্দায় রিপ্লে দেখলেন। তার পর অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে মাঠ ছাড়লেন।

খালি চোখে ওটা বাজে শট। আদতে, প্রবল চাপের মধ্যে এসবই তো হয়!

অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন তখন চার রান, বাংলাদেশের ১ উইকেট।

বাংলাদেশের জন্য জরুরি ছিল, মুস্তাফিজের বাকি তিন বলেই শেষ উইকেটটি আদায় করা। কিন্তু রাইলি মেরেডিথ কাটিয়ে দিলেন ওভারটি। বাংলাদেশের আশাও তাতে দমে গেল কিছুটা। শেষ ওভারটি করবেন যিনি, সেই তাসকিন যে এ দিন ছন্দে ছিলেন না!

আরও পড়ুনঃ  হাতিরঝিলে দিনে দুপুরে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ কাইল্লা পলাশকে গুলি

শেষ পর্যন্ত শেষের শঙ্কাই সত্যি হলো। তাসকিন পারলেন না দলকে জেতাতে। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা হলো না আপাতত।

আগের ম্যাচে আঘাত পাওয়ায় এই ম্যাচটি না খেলা মেহেদী হাসান মিরাজ এই উত্তেজনার সঙ্গী হয়েছেন ডাগআউট থেকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক পরে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, হারার আগে না হারার বিশ্বাসই দলকে নিয়ে গিয়েছিল জয়ের কাছে।

“মোমেন্টাম একবার ওদের কাছে যাচ্ছিল, একবার আমাদের কাছে আসছিল। ক্রিকেট খেলায় এটাই হয়ে থাকে। যারা সুযোগ কম দেবে, তাদেরই ম্যাচ জেতার চান্স থাকে। আমরা একটা সময় ওদেরকে সুযোগ দিয়েছি, ওরা সুযোগটা নিয়েছে। আবার আমরা যখন ভালো জায়গায় বল করেছি, উইকেট নিয়েছি, তখন আমরা আবার ওদেরকে চাপে ফেলিয়েছি।”

“কাজেই মোমেন্টাম এরকমই ছিল, তবে বিশ্বাস ছিল সবার, যে ম্যাচটা জিততে পারব। হয়তো এজন্য অনেক ক্লোজে গিয়েছে ম্যাচ।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ঢাকার যানজট কমাতে বড় সিদ্ধান্ত, সরছে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গুলিস্তান বাস টার্মিনাল

জয়ের বিশ্বাসই অবিশ্বাস্য জয়ের কাছে নিয়েছিল বাংলাদেশকে

আপডেটের সময়: ১২:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে অভাবনীয় এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত যদিও ধরা দেয়নি জয়।
জয়ের বিশ্বাসই অবিশ্বাস্য জয়ের কাছে নিয়েছিল বাংলাদেশকে

দর্শকদের অনেকে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন ম্যাচ শেষের বেশ আগেই। ম্যাচে তেমন উত্তেজনাই যে ছিল না! সহজ জয়ের পথে ছিল অস্ট্রেলিয়া। দেড়শ রানের পথে ছিলেন কুপার কনোলি। কিন্তু যারা আগে ফিরে গেছেন, তারা নিশ্চয়ই পড়ে আফসোসে পুড়েছেন। টানটান উত্তেজনার ধ্রুপদি এক লড়াইয়ে স্বাক্ষী তারা হতে পারলেন না!

৪৫তম ওভারে কুপার কনোলি যখন টানা তিনটি ছক্কা মারলেন তাসকিন আহমেদকে, ম্যাচ তখন প্রাণ তেমন একটা ছিল না। ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল মোটে ৯ রান, উইকেট অক্ষত ছিল ৫টি। কনোলি ও অলিভার পিকের জুটি তখনও জমাট। সাধারণ হিসাব বলবে, ম্যাচে তখন কেবল আনুষ্ঠানিকতাই বাকি।

তবে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা’ কথাটি অতি ক্লিশে হলেও আদতে যে কতটা সত্যি, সেটি অনেকসময়ই মনে করিয়ে দেয় ক্রিকেট। এই দিনটিতে যেমন হলো!

আরও পড়ুনঃ  দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের গোলে বিশ্বকাপে জয় দিয়ে শুরু আইভরি কোস্টের

শরিফুল ইসলাম যখন পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জেভিয়ার বার্টলেটকে ফেরালেন, তখনও এতটা নাটকের কথা ভাবা যায়নি। মনে হচ্ছিল, স্রেফ শেষের আগে একটু রোমাঞ্চ ফিরল।

মুস্তাফিজুর রহমান যখন বেন ডোয়ার্শাসের ক্যাচ নিতে পারলেন না, আফসোস বাড়ল একটু। তখনও জয়ের আশা ততটা তীব্র নয়।

কিন্তু শরিফুল যখন সেই ডোয়ার্শিসকে ফিরিয়ে ষষ্ঠ শিকার ধরলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা সত্যিকার অর্থেই জেরগ উঠল তখন। একটু আগেও মিইয়ে থাকা ততক্ষণে গ্যালারি ততক্ষণে উত্তাল হয়ে প্রেরণা জোগাচ্ছে দলকে।

দুই বল পর অ্যাডাম জ্যাম্পার ক্যাচ যখন তানজিদ হাসানের হাত ফসকে গেল, দর্শকের আক্ষেপের সুর যেন তীব্র হাহাকারের ঢেউ হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে।

তবে বাংলাদেশ তখনও হাল ছাড়েনি। দল তখনও বিশ্বাস হারায়নি।

আরও পড়ুনঃ  হাতিরঝিলে দিনে দুপুরে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ কাইল্লা পলাশকে গুলি

শরিফুলের সাত উইকেট হলো না। ১০ ওভারের কোটাও শেষ হয়ে গেল। তার পরও নতুন আশার সূর্য উঁকি দিল, যখন মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আলগা শটে উইকেট হারালেন কনোলি।

১৩৪ বলে ১৪৯ রান করা ব্যাটসম্যান অত বাইরের বল টেনে আউট হতে পারেন, অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেননি। কনোলি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। বোল্ড হওয়ার পর মাঠেই দাঁড়িয়ে থেকে বড় পর্দায় রিপ্লে দেখলেন। তার পর অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে মাঠ ছাড়লেন।

খালি চোখে ওটা বাজে শট। আদতে, প্রবল চাপের মধ্যে এসবই তো হয়!

অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন তখন চার রান, বাংলাদেশের ১ উইকেট।

বাংলাদেশের জন্য জরুরি ছিল, মুস্তাফিজের বাকি তিন বলেই শেষ উইকেটটি আদায় করা। কিন্তু রাইলি মেরেডিথ কাটিয়ে দিলেন ওভারটি। বাংলাদেশের আশাও তাতে দমে গেল কিছুটা। শেষ ওভারটি করবেন যিনি, সেই তাসকিন যে এ দিন ছন্দে ছিলেন না!

আরও পড়ুনঃ  তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু: বাংলাদেশের ৫৪ বছরের বাজেট ইতিহাস একনজরে

শেষ পর্যন্ত শেষের শঙ্কাই সত্যি হলো। তাসকিন পারলেন না দলকে জেতাতে। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা হলো না আপাতত।

আগের ম্যাচে আঘাত পাওয়ায় এই ম্যাচটি না খেলা মেহেদী হাসান মিরাজ এই উত্তেজনার সঙ্গী হয়েছেন ডাগআউট থেকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক পরে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, হারার আগে না হারার বিশ্বাসই দলকে নিয়ে গিয়েছিল জয়ের কাছে।

“মোমেন্টাম একবার ওদের কাছে যাচ্ছিল, একবার আমাদের কাছে আসছিল। ক্রিকেট খেলায় এটাই হয়ে থাকে। যারা সুযোগ কম দেবে, তাদেরই ম্যাচ জেতার চান্স থাকে। আমরা একটা সময় ওদেরকে সুযোগ দিয়েছি, ওরা সুযোগটা নিয়েছে। আবার আমরা যখন ভালো জায়গায় বল করেছি, উইকেট নিয়েছি, তখন আমরা আবার ওদেরকে চাপে ফেলিয়েছি।”

“কাজেই মোমেন্টাম এরকমই ছিল, তবে বিশ্বাস ছিল সবার, যে ম্যাচটা জিততে পারব। হয়তো এজন্য অনেক ক্লোজে গিয়েছে ম্যাচ।”