
স্বাস্থ্য খাতে এবারের বাজেটে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই বিশাল বরাদ্দের স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, জটিল ক্রয়প্রক্রিয়া, দক্ষ ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বাজেটের বড় অংশ সময়মতো বাস্তবায়িত হয় না। ফলে কাগজে-কলমে বরাদ্দ বাড়লেও সাধারণ মানুষ এর পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, বাজেট বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা ও নৈরাজ্য দূর করতে হবে। অনেক হাসপাতালে দালাল ও অনিয়মের কারণে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জনবল সংকটও গুরুতর, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নেই।
তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে অন্তত কিছু ওষুধ ও পরীক্ষার সুযোগ বিনামূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। দেশের স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নিতে দেশীয় সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, বরাদ্দ বাড়া ইতিবাচক হলেও এর কার্যকর ব্যবহার নির্ভর করছে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গতির ওপর। এখন থেকেই প্রস্তুতি না নিলে বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যয় করা সম্ভব হবে না।
প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ নিজ পকেট থেকে বহন করে। সরকারি হাসপাতালে ওষুধ, পরীক্ষা এবং সেবার ঘাটতি দূর করতে পারলে স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা এবং দক্ষ জনবল বৃদ্ধি করা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ইতিহাসে সর্বোচ্চ হলেও বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বরাদ্দ বাড়লেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল পুরোপুরি পৌঁছায় না। এজন্য সুশাসন, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
প্রতিবেদকের নাম 




















