ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নিরাপদ সড়ক গড়তে শিক্ষার্থীদেরও আইন মানতে হবে দিল্লিতে বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তন, তালিকা থেকে বাদ যন্তর-মন্তর ‘ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব’ দুই হাত ছাড়াই পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা, এখন ১৪৫ শিশুর শিক্ষক দুঃখু মিয়া লিটনের সেঞ্চুরি, আফগানিস্তানের লক্ষ্য ৪৭৯ রান রূপগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাইয়ে চালককে হত্যা, গ্রেফতার ২ গোয়েন্দা সিনেমাকেও হার মানানো অভিযান, আশুলিয়ায় ডাকাত সর্দার শাওনসহ আটক ৬ গুগল ম্যাপে যেকোনো স্থান চিহ্নিত করবেন যেভাবে করাচিতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা, বিক্ষোভ-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ও মাউশির চিঠি টেম্পারিং করে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রমাণিত, বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষ আমজাদ

 

 

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ঐতিহ্য বাহী ১৯৭০ সালের বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম, দুর্নীতিসহ স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অবৈধ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন একাধিক সরকারি তদন্ত কমিটি।

এর আগে ওই কলেজের বৈধ ভুক্তভোগী অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো: এরশাদ আলী দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় মাউশি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অঞ্চল, রাজশাহী অফিস।

এক সময়ে মাউশির সহকারী পরিচালক মো. আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হাসান ও একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনকে। চিঠিতে তাদের ১৪ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
এ বিষয়ে একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন যে আমরা সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি। ওই শিক্ষকের সকল (এরশাদ আলী) অভিযোগ সত্য। আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা যেদিন তদন্ত করতে গেলাম, অধ্যক্ষ সেদিন কলেজে অনুপস্থিত ছিল। তিনি চলে গেলেন রাজশাহীতে। অথচ যাওয়ার আগে আমরা তাকে জানিয়েছিলাম বিষয়টা। ইচ্ছাকৃত তিনি এমনটা করেছেন জবাব দেওয়ার ভয়ে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন মাউশিতে পাঠান।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দিন ইলিয়াসের পাঠানো পত্রের অনুমোদন সাপেক্ষে বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বছরের ৩১ আগস্ট বোর্ড গার্হস্থ্য অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের জন্য তিন জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়। গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে ফারহানা আফরোজ, মনোবিজ্ঞানে মো.শহিদুজ্জামান ও অর্থনীতি বিভাগে মো: এরশাদ আলী নামে এই তিন জন শিক্ষক নিয়োগ পান।

আরও পড়ুনঃ  রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বগুড়ার শাহেদের মৃত্যু, স্বামীর ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী

উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের শুরুতে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ম্যানেজিং কমিটির হাত থেকে সব নিয়োগ ক্ষমতা চলে যায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাতে। এতে বিচলিত হয়ে পড়েন বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের অর্থলোভী অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন। কেননা, এনটিআরসিএ’র ক্ষমতা গ্রহণের আগেই আরও অবৈধ পাঁচজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এরই মধ্যে গভর্নিং বডির কাউকে না জানিয়ে ওই তিন শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মহাপরিচালকের প্রতিনিধি স. ম. আব্দুস সামাদ আজাদ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি সারওয়ার জাহানের স্বাক্ষর জাল করেন অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন। স্বাক্ষর জাল করনের মাধ্যমে দর্শনে কামাল হোসেন, বাংলায় মানিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জাকির হোসেন, ইংরেজিতে রাজীব ও ভূগোলে আবু রায়হানসহ পাঁচ জন এবং আগের তিন জনসহ মোট আট জনকে নিয়োগ দেখান। কলেজ অধ্যক্ষ গোপনে পাঁচ জনের অবৈধ নিয়োগ বৈধ করার জন্য প্রভাষক এরশাদ আলীর বৈধ নিয়োগ সংক্রান্ত সকল চিঠিপত্র এবং রেজুলেশন টেম্পারিং করেন।

অধ্যক্ষ প্রকৃত নিয়োগ বোর্ডের যে কাগজ গুলো টেম্পারিং করেন তা হলো-

ডিজি প্রতিনিধির গত ২৬/০৭/২০১৫ এর চিঠি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ২৮/০৬/২০১৫ এর চিঠি, ৩১/০৭/২০১৫ তারিখের সাক্ষাৎকার বোর্ডের ফলাফল শিট এবং কলেজ গভর্নিং বডির গত ২২/০৮/২০১৫ তারিখের চলমান রেজুলেশন টেম্পারিং, পৃষ্ঠা পরিবর্তন, তথ্য পরিবর্তন ও মিথ্যা রেকর্ড সৃষ্টি, প্রভাষক এরশাদ আলীর গত ৩১/০৮/২০১৫ তারিখের নিয়োগ পত্র টেম্পারিং, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের গত ২৯/০৪/২০২০ এর স্মারক নং টেম্পারিং করা সহ বৈধ প্রভাষক এরশাদ আলীর নিয়োগ সংক্রান্ত সকল ধরনের কাগজ ব্যবহার করে নকল করে বিধি বর্হিভূত ভাবে পাঁচটি বিষয়সহ মোট আটটি বিষয় নিয়োগ উল্লেখ করে বৈধ প্রভাষক এরশাদ আলীর (অর্থনীতি) ও অবৈধ শিক্ষক কামাল হোসেনের ( দর্শন ) গত ০২/০৫/২০২০ তারিখে বেতন আবেদন রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে অনলাইনে দাখিল করেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আমজাদ।
দাখিল কৃত ফাইল এর ২০১৫ সালের ২২ আগস্ট তারিখের মূল রেজুলেশন কাটাকাটি ও ঘষামাজা দেখে সন্দেহ হলে বৈধ জনাব এরশাদ আলী ও ভুয়া দর্শন বিভাগের শিক্ষক কামাল হোসেনের বেতন আবেদন বাতিল করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অঞ্চল, রাজশাহী অফিস। ২০১৯ সালের জুন জুলাই মাস থেকে আজ অবধি বেতন ভাতা আটকে রয়েছে প্রভাষক এরশাদ আলীর। শিক্ষা অফিস থেকে অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেনের কাছে এ বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হলে তিনি দীর্ঘদিন কোনো জবাব দেননি। একপর্যায়ে আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের ঐ সময়ের পরিচালক প্রফেসর ড কামাল হোসেন সরেজমিনে কলেজে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে অধ্যক্ষের সব জালিয়াতির প্রমাণ পান। আরো জানা যায় যে গত ২০/০২/২০২৩ তারিখে মাউশি অধিদপ্তর, ঢাকাতে অধ্যক্ষের উপরোক্ত সকল জালিয়াতি বা অনিয়ম গুলো সত্য প্রমাণিত হয়ে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর ধারা ১৭.৯, ১৮.১ এর (গ এবং ঙ) অনুযায়ী অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো: আমজাদ হোসেন ইনডেক্স নং R840239 এর এমপিও Stop Payment করা হয়।
উল্লেখ্য যে ভুয়া দর্শন বিভাগের শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেনের বেতন ভাতা চালু করে দিয়েছেন দিয়েছেন এবং বাকী চারজন ভুয়া শিক্ষক দের বেতন ভাতা চালু করার চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন। যা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর শামিল।

আরও পড়ুনঃ  ‘শব্দচয়নে ভুল হয়েছিল’, সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ চিকিৎসকের

আরো উল্লেখ্য যে অত্র কলেজের সাবেক সভাপতি যতীন্দ্র মোহন প্রমাণিক, শিক্ষক প্রতিনিধি বিধান কুমার, সাবেক বিদ্যুৎসাহী সদস্য আশরাফুল ইসলাম,
আ: আজিজ, আ: লতিফ, অভিভাবক সদস্য ইব্রাহীম হোসেন, উপাধ্যক্ষ রোকেয়া খাতুন সহ একাধিক শিক্ষক গণ, ছাত্র- অভিভাবক, কলেজ প্রতিষ্ঠাতার ভাতিজা আ: হাকিম, কলেজ মার্কেটের দোকান দার গণ, কলেজ এলাকার জনসাধারণ তথা সকল মহল কলেজের স্বার্থে অধ্যক্ষের স্হায়ী বরখাস্ত সহ যথাযথ ব্যবস্হা গ্রহনের ও অবৈধ শিক্ষক দের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্হা গ্রহনের এবং সেই সাথে বৈধ প্রভাষক জনাব মো: এরশাদ আলীর (অর্থনীতি) ২০১৯ সালের জুন জুলাই মাস থেকে আটকে থাকা বকেয়া সহ ন্যায্য বেতন ভাতা চালুর দাবি করছেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট।

আরও পড়ুনঃ  ময়মনসিংহে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, বিএনপির পাল্টা লাঠিমিছিল

আরো জানা যায় যে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাউশি অধিদপ্তর থেকে শাস্তির তিনটি ধারা উল্লেখিত চিঠি জারি হওয়ায় এরশাদ আলী কে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দিয়ে দাপট দেখিয়ে বর্তমানে অধ্যক্ষ নিজের অপরাধ লুকাতে ও চাকরি বাঁচাতে এবং অবৈধ শিক্ষকদের টিকিয়ে রাখতে এবং বৈধ প্রভাষক এরশাদ আলীর এমপিও না হওযার জন্য অধ্যক্ষ সরকারি দপ্তরের একাধিক আদেশ ও আইন অমান্য করে নিজের মন গড়া তৈরী করা কমিটিকে হাত করে ব্যাপক পরিমাণে কলেজের অর্থ অপচয় করার মাধ্যমে নিয়মিত কলেজে না এসে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র এবং অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ অধ্যক্ষের কোন ধরনের অনুরোধ আমলে না নিয়ে অধ্যক্ষের নানাবিধ অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্ত সহ প্রয়োজনীয় আইন গত ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট শ্রদ্ধা ভরে দাবি করছেন সকল সচেতন মহল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নিরাপদ সড়ক গড়তে শিক্ষার্থীদেরও আইন মানতে হবে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ও মাউশির চিঠি টেম্পারিং করে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রমাণিত, বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষ আমজাদ

আপডেটের সময়: ০৩:২২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

 

 

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ঐতিহ্য বাহী ১৯৭০ সালের বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম, দুর্নীতিসহ স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অবৈধ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন একাধিক সরকারি তদন্ত কমিটি।

এর আগে ওই কলেজের বৈধ ভুক্তভোগী অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো: এরশাদ আলী দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় মাউশি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অঞ্চল, রাজশাহী অফিস।

এক সময়ে মাউশির সহকারী পরিচালক মো. আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হাসান ও একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনকে। চিঠিতে তাদের ১৪ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
এ বিষয়ে একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন যে আমরা সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি। ওই শিক্ষকের সকল (এরশাদ আলী) অভিযোগ সত্য। আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা যেদিন তদন্ত করতে গেলাম, অধ্যক্ষ সেদিন কলেজে অনুপস্থিত ছিল। তিনি চলে গেলেন রাজশাহীতে। অথচ যাওয়ার আগে আমরা তাকে জানিয়েছিলাম বিষয়টা। ইচ্ছাকৃত তিনি এমনটা করেছেন জবাব দেওয়ার ভয়ে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন মাউশিতে পাঠান।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দিন ইলিয়াসের পাঠানো পত্রের অনুমোদন সাপেক্ষে বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বছরের ৩১ আগস্ট বোর্ড গার্হস্থ্য অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের জন্য তিন জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়। গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে ফারহানা আফরোজ, মনোবিজ্ঞানে মো.শহিদুজ্জামান ও অর্থনীতি বিভাগে মো: এরশাদ আলী নামে এই তিন জন শিক্ষক নিয়োগ পান।

আরও পড়ুনঃ  রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বগুড়ার শাহেদের মৃত্যু, স্বামীর ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী

উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের শুরুতে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ম্যানেজিং কমিটির হাত থেকে সব নিয়োগ ক্ষমতা চলে যায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাতে। এতে বিচলিত হয়ে পড়েন বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের অর্থলোভী অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন। কেননা, এনটিআরসিএ’র ক্ষমতা গ্রহণের আগেই আরও অবৈধ পাঁচজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এরই মধ্যে গভর্নিং বডির কাউকে না জানিয়ে ওই তিন শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মহাপরিচালকের প্রতিনিধি স. ম. আব্দুস সামাদ আজাদ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি সারওয়ার জাহানের স্বাক্ষর জাল করেন অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন। স্বাক্ষর জাল করনের মাধ্যমে দর্শনে কামাল হোসেন, বাংলায় মানিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জাকির হোসেন, ইংরেজিতে রাজীব ও ভূগোলে আবু রায়হানসহ পাঁচ জন এবং আগের তিন জনসহ মোট আট জনকে নিয়োগ দেখান। কলেজ অধ্যক্ষ গোপনে পাঁচ জনের অবৈধ নিয়োগ বৈধ করার জন্য প্রভাষক এরশাদ আলীর বৈধ নিয়োগ সংক্রান্ত সকল চিঠিপত্র এবং রেজুলেশন টেম্পারিং করেন।

অধ্যক্ষ প্রকৃত নিয়োগ বোর্ডের যে কাগজ গুলো টেম্পারিং করেন তা হলো-

ডিজি প্রতিনিধির গত ২৬/০৭/২০১৫ এর চিঠি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ২৮/০৬/২০১৫ এর চিঠি, ৩১/০৭/২০১৫ তারিখের সাক্ষাৎকার বোর্ডের ফলাফল শিট এবং কলেজ গভর্নিং বডির গত ২২/০৮/২০১৫ তারিখের চলমান রেজুলেশন টেম্পারিং, পৃষ্ঠা পরিবর্তন, তথ্য পরিবর্তন ও মিথ্যা রেকর্ড সৃষ্টি, প্রভাষক এরশাদ আলীর গত ৩১/০৮/২০১৫ তারিখের নিয়োগ পত্র টেম্পারিং, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের গত ২৯/০৪/২০২০ এর স্মারক নং টেম্পারিং করা সহ বৈধ প্রভাষক এরশাদ আলীর নিয়োগ সংক্রান্ত সকল ধরনের কাগজ ব্যবহার করে নকল করে বিধি বর্হিভূত ভাবে পাঁচটি বিষয়সহ মোট আটটি বিষয় নিয়োগ উল্লেখ করে বৈধ প্রভাষক এরশাদ আলীর (অর্থনীতি) ও অবৈধ শিক্ষক কামাল হোসেনের ( দর্শন ) গত ০২/০৫/২০২০ তারিখে বেতন আবেদন রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে অনলাইনে দাখিল করেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আমজাদ।
দাখিল কৃত ফাইল এর ২০১৫ সালের ২২ আগস্ট তারিখের মূল রেজুলেশন কাটাকাটি ও ঘষামাজা দেখে সন্দেহ হলে বৈধ জনাব এরশাদ আলী ও ভুয়া দর্শন বিভাগের শিক্ষক কামাল হোসেনের বেতন আবেদন বাতিল করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অঞ্চল, রাজশাহী অফিস। ২০১৯ সালের জুন জুলাই মাস থেকে আজ অবধি বেতন ভাতা আটকে রয়েছে প্রভাষক এরশাদ আলীর। শিক্ষা অফিস থেকে অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেনের কাছে এ বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হলে তিনি দীর্ঘদিন কোনো জবাব দেননি। একপর্যায়ে আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের ঐ সময়ের পরিচালক প্রফেসর ড কামাল হোসেন সরেজমিনে কলেজে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে অধ্যক্ষের সব জালিয়াতির প্রমাণ পান। আরো জানা যায় যে গত ২০/০২/২০২৩ তারিখে মাউশি অধিদপ্তর, ঢাকাতে অধ্যক্ষের উপরোক্ত সকল জালিয়াতি বা অনিয়ম গুলো সত্য প্রমাণিত হয়ে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর ধারা ১৭.৯, ১৮.১ এর (গ এবং ঙ) অনুযায়ী অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো: আমজাদ হোসেন ইনডেক্স নং R840239 এর এমপিও Stop Payment করা হয়।
উল্লেখ্য যে ভুয়া দর্শন বিভাগের শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেনের বেতন ভাতা চালু করে দিয়েছেন দিয়েছেন এবং বাকী চারজন ভুয়া শিক্ষক দের বেতন ভাতা চালু করার চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন। যা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর শামিল।

আরও পড়ুনঃ  ‘চোখকে ভালোবাসুন’ বার্তায় কুমিল্লায় দৃষ্টি দিবসের র‍্যালি

আরো উল্লেখ্য যে অত্র কলেজের সাবেক সভাপতি যতীন্দ্র মোহন প্রমাণিক, শিক্ষক প্রতিনিধি বিধান কুমার, সাবেক বিদ্যুৎসাহী সদস্য আশরাফুল ইসলাম,
আ: আজিজ, আ: লতিফ, অভিভাবক সদস্য ইব্রাহীম হোসেন, উপাধ্যক্ষ রোকেয়া খাতুন সহ একাধিক শিক্ষক গণ, ছাত্র- অভিভাবক, কলেজ প্রতিষ্ঠাতার ভাতিজা আ: হাকিম, কলেজ মার্কেটের দোকান দার গণ, কলেজ এলাকার জনসাধারণ তথা সকল মহল কলেজের স্বার্থে অধ্যক্ষের স্হায়ী বরখাস্ত সহ যথাযথ ব্যবস্হা গ্রহনের ও অবৈধ শিক্ষক দের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্হা গ্রহনের এবং সেই সাথে বৈধ প্রভাষক জনাব মো: এরশাদ আলীর (অর্থনীতি) ২০১৯ সালের জুন জুলাই মাস থেকে আটকে থাকা বকেয়া সহ ন্যায্য বেতন ভাতা চালুর দাবি করছেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট।

আরও পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে কুষ্টিয়ায় ১৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ

আরো জানা যায় যে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাউশি অধিদপ্তর থেকে শাস্তির তিনটি ধারা উল্লেখিত চিঠি জারি হওয়ায় এরশাদ আলী কে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দিয়ে দাপট দেখিয়ে বর্তমানে অধ্যক্ষ নিজের অপরাধ লুকাতে ও চাকরি বাঁচাতে এবং অবৈধ শিক্ষকদের টিকিয়ে রাখতে এবং বৈধ প্রভাষক এরশাদ আলীর এমপিও না হওযার জন্য অধ্যক্ষ সরকারি দপ্তরের একাধিক আদেশ ও আইন অমান্য করে নিজের মন গড়া তৈরী করা কমিটিকে হাত করে ব্যাপক পরিমাণে কলেজের অর্থ অপচয় করার মাধ্যমে নিয়মিত কলেজে না এসে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র এবং অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ অধ্যক্ষের কোন ধরনের অনুরোধ আমলে না নিয়ে অধ্যক্ষের নানাবিধ অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্ত সহ প্রয়োজনীয় আইন গত ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট শ্রদ্ধা ভরে দাবি করছেন সকল সচেতন মহল।

নিজস্ব সংবাদদাতা