গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭ সেন্টিমিটার এবং নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি ৩৪ সেন্টিমিটার কমেছে।

গত বৃহস্পতিবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় অসংখ্য বসতভিটা ও আবাদি জমি। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিজার রহমান জানান, ভাঙনের মুখে রয়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ এবং অন্তত ২০টি পরিবার। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেন।
একই ইউনিয়নের আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। পুরো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা জুড়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
জেলা জুড়ে নদীভাঙনের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সদর, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৮০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ।
ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভূষির ভিটা এলাকাতেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়াসহ ভাঙনপ্রবণ ১৩ থেকে ১৪টি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কয়েকটি জেলার নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এর ফলে গাইবান্ধাসহ আশপাশের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















