ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আলিফের একটি চোখের দৃষ্টি পুরোপুরি নষ্টের দাবি সারজিস আলমের বর্তমান সরকারের কার্যক্রম আগের ১৭ বছরের তুলনায় ভালো: আন্দালিব রহমান পার্থ গার্ড অব অনার গ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেনে নতুন যুগ: পেপাল–পেওনিয়ার–স্ট্রাইপের সঙ্গে অংশীদারত্বের পথ খুলল প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের অপেক্ষায় ভারত, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের হাসপাতালে ভর্তি ৯৯ শতাংশ শিশুই হামের টিকা পায়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল হাসিমাখা সেই তাহসিন মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতন অভিযুক্তকে গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে গিয়ে ৮ পুলিশ সদস্য আহত ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৫৩৪ ‘বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই’: উয়েফা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

তিস্তার ভয়াল ভাঙনে গাইবান্ধায় শতাধিক বসতভিটা বিলীন, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭ সেন্টিমিটার এবং নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি ৩৪ সেন্টিমিটার কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৩, উদ্ধার মাদক ও স্বর্ণালংকার

 

গত বৃহস্পতিবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় অসংখ্য বসতভিটা ও আবাদি জমি। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিজার রহমান জানান, ভাঙনের মুখে রয়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ এবং অন্তত ২০টি পরিবার। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ  সরকারের আশ্বাসে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত ককরোচ জনতা পার্টির

একই ইউনিয়নের আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। পুরো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা জুড়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

জেলা জুড়ে নদীভাঙনের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সদর, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৮০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ।

ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভূষির ভিটা এলাকাতেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  EduQuest Pvt Ltd, Education Fair 2026.

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়াসহ ভাঙনপ্রবণ ১৩ থেকে ১৪টি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কয়েকটি জেলার নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এর ফলে গাইবান্ধাসহ আশপাশের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আলিফের একটি চোখের দৃষ্টি পুরোপুরি নষ্টের দাবি সারজিস আলমের

তিস্তার ভয়াল ভাঙনে গাইবান্ধায় শতাধিক বসতভিটা বিলীন, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

আপডেটের সময়: ০৮:২৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭ সেন্টিমিটার এবং নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি ৩৪ সেন্টিমিটার কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  রিয়াজ-ফেরদৌসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্তের আবেদন

 

গত বৃহস্পতিবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় অসংখ্য বসতভিটা ও আবাদি জমি। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিজার রহমান জানান, ভাঙনের মুখে রয়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ এবং অন্তত ২০টি পরিবার। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ  দেশের ৮ জেলায় ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

একই ইউনিয়নের আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। পুরো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা জুড়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

জেলা জুড়ে নদীভাঙনের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সদর, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৮০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ।

ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভূষির ভিটা এলাকাতেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মিরপুরে টিসিবির পণ্য নিতে এসে দেয়াল ধসে নিহত ২, আহত ৮

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়াসহ ভাঙনপ্রবণ ১৩ থেকে ১৪টি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কয়েকটি জেলার নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এর ফলে গাইবান্ধাসহ আশপাশের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।