ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
‘বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই’: উয়েফা চীনে ভয়াবহ ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ ভিনিসিয়ুসকে দলে টানতে প্রস্তুত আর্সেনাল, চুক্তি বাড়াতে মরিয়া রিয়াল মাদ্রিদ বিপিএল না হলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা তাওহীদ হৃদয়ের সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিল্পখাতে গ্যাস সংকট: বিটিএমএ সভাপতি, সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর আইএমএফের সবুজসংকেত পেলেই নবম পে স্কেল ঘোষণা সিআইডির নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, বিপাকে বরগুনার দুই সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে চীনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ ইরানের হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির, মৌলভীবাজারের পদযাত্রা স্থগিত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

তিস্তার ভয়াল ভাঙনে গাইবান্ধায় শতাধিক বসতভিটা বিলীন, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭ সেন্টিমিটার এবং নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি ৩৪ সেন্টিমিটার কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  অস্ত্র সংকটে ইরানে হামলা স্থগিত? যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত ঘিরে ভিন্ন তথ্য

 

গত বৃহস্পতিবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় অসংখ্য বসতভিটা ও আবাদি জমি। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিজার রহমান জানান, ভাঙনের মুখে রয়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ এবং অন্তত ২০টি পরিবার। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ  আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে চীনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ ইরানের

একই ইউনিয়নের আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। পুরো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা জুড়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

জেলা জুড়ে নদীভাঙনের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সদর, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৮০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ।

ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভূষির ভিটা এলাকাতেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  এক ইলিশ প্রায় ৭ হাজার টাকায় বিক্রি

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়াসহ ভাঙনপ্রবণ ১৩ থেকে ১৪টি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কয়েকটি জেলার নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এর ফলে গাইবান্ধাসহ আশপাশের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই’: উয়েফা

তিস্তার ভয়াল ভাঙনে গাইবান্ধায় শতাধিক বসতভিটা বিলীন, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

আপডেটের সময়: ০৮:২৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭ সেন্টিমিটার এবং নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি ৩৪ সেন্টিমিটার কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর মোদীর কাছে ক্ষমা চাইলেন খাড়গে

 

গত বৃহস্পতিবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় অসংখ্য বসতভিটা ও আবাদি জমি। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিজার রহমান জানান, ভাঙনের মুখে রয়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ এবং অন্তত ২০টি পরিবার। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ  বিদেশে কর্মসংস্থানের রাষ্ট্রীয় সংস্থা বোয়েসেলে নতুন নেতৃত্ব, এমডি হলেন রাশেদুল হক

একই ইউনিয়নের আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। পুরো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা জুড়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

জেলা জুড়ে নদীভাঙনের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সদর, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৮০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ।

ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভূষির ভিটা এলাকাতেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা নিহতের দাবি ইরানের

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়াসহ ভাঙনপ্রবণ ১৩ থেকে ১৪টি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কয়েকটি জেলার নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এর ফলে গাইবান্ধাসহ আশপাশের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।