ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দিল্লিতে ডা. জাহেদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব প্রিয় দলের জার্সি পরে খেলা দেখায় কেন বাড়ে আবেগ? লিবিয়া হয়ে অবৈধ প্রবেশে কড়াকড়ি, সতর্ক করল ইতালি দূতাবাস গাইবান্ধার হত্যা মামলার প্রধান আসামি রংপুরে গ্রেফতার জানুন বাস্তব টিভি আয়ু ও নষ্ট হওয়ার কারণ মন্ত্রীর কাছে টাকা নিয়ে ঘুরেছি—এ দাবি সত্য নয়: আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহিউদ্দিন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য সাংবাদিকদের দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় রায় নিয়ে আপিল শুনানির প্রস্তুতি
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com
 বিলের রহস্যময় ‘কটকটি’ মাছ

 দেখতে ব্যাঙাচির মতো, স্বাদে অতুলনীয়—তবু বিলুপ্তির পথে বাংলার এক জলজ ঐতিহ্য

 


গ্রামীণ বাংলার বিল, ডোবা ও খাল একসময় ছিল দেশি মাছের স্বর্গরাজ্য। বর্ষা শেষে সেসব জলাশয় সেচে মাছ ধরার উৎসব গ্রামজীবনের আনন্দের অংশ ছিল। সেই সময় জালে ধরা পড়ত কই, শিং, মাগুর, শোলের মতো পরিচিত মাছের পাশাপাশি এক অদ্ভুত আকৃতির মাছ—‘কটকটি’।

কোথাও একে বলা হতো চ্যাগা, কোথাও কুতকুতে, আবার কোথাও ব্যাঙ মাছ। দেখতে ব্যাঙাচির মতো এই মাছ আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে দেশের অনেক অঞ্চল থেকে।


ব্যাঙাচির মতো অদ্ভুত গড়ন

কটকটি মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Chaca chaca। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘Squarehead Catfish’ নামে পরিচিত। মাথা চওড়া ও চ্যাপ্টা, শরীর সামনে মোটা আর পেছনের দিকে সরু—দেখতে প্রায় ব্যাঙাচির মতোই।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কাদামাটির রঙের কারণে এটি সহজেই পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, ফলে শত্রুর চোখ এড়িয়ে লুকিয়ে থাকা সহজ হয়।


নামের পেছনের গল্প

গ্রামের মানুষের মতে, মাছটি ধরলে নড়াচড়ার সময় ‘কটকট’ ধরনের শব্দ করত। সেই শব্দ থেকেই নাম হয়েছে ‘কটকটি’। বিজ্ঞানীরাও জানান, এই প্রজাতির ক্যাটফিশ শব্দ তৈরি করতে সক্ষম—যা একটি বিরল বৈশিষ্ট্য।

আরও পড়ুনঃ  পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ

ধৈর্যশীল শিকারি

এই মাছ সাধারণত কাদামাটির তলদেশে লুকিয়ে থাকে এবং ছোট মাছ বা জলজ প্রাণী হঠাৎ আক্রমণ করে শিকার করে। বাস্তুতন্ত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


দেখতে অদ্ভুত, স্বাদে অসাধারণ

দেখতে ভয়ংকর হলেও কটকটি মাছের মাংস নরম ও সুস্বাদু। ছোট কাঁটার ঝামেলা প্রায় নেই বললেই চলে। গ্রামীণ রান্নায় আলু, বেগুন ও মশলা দিয়ে এর ঝোল ছিল বেশ জনপ্রিয়।


বিপন্ন অবস্থায় কটকটি

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য তালিকায় Chaca chaca এখন ‘Endangered’ বা বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। অনেক এলাকায় বহু বছর ধরে এই মাছ আর দেখা যায় না।

আরও পড়ুনঃ  সরকারি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কেন হারিয়ে যাচ্ছে?

জলাভূমি ভরাট, কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহার, জলাশয় শুকিয়ে ফেলা এবং বাণিজ্যিক মাছ চাষের প্রসার—সব মিলিয়ে এই দেশি প্রজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।


হারিয়ে যাচ্ছে একটি ঐতিহ্যও

কটকটি মাছ শুধু একটি প্রজাতি নয়, এটি গ্রামীণ স্মৃতি ও খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। এর বিলুপ্তি মানে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই দেশীয় জলজ প্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কটকটির মতো আরও বহু প্রজাতি শুধু ইতিহাসে থেকে যাবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দিল্লিতে ডা. জাহেদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব

 বিলের রহস্যময় ‘কটকটি’ মাছ

 দেখতে ব্যাঙাচির মতো, স্বাদে অতুলনীয়—তবু বিলুপ্তির পথে বাংলার এক জলজ ঐতিহ্য

আপডেটের সময়: ০৭:৪১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

 


গ্রামীণ বাংলার বিল, ডোবা ও খাল একসময় ছিল দেশি মাছের স্বর্গরাজ্য। বর্ষা শেষে সেসব জলাশয় সেচে মাছ ধরার উৎসব গ্রামজীবনের আনন্দের অংশ ছিল। সেই সময় জালে ধরা পড়ত কই, শিং, মাগুর, শোলের মতো পরিচিত মাছের পাশাপাশি এক অদ্ভুত আকৃতির মাছ—‘কটকটি’।

কোথাও একে বলা হতো চ্যাগা, কোথাও কুতকুতে, আবার কোথাও ব্যাঙ মাছ। দেখতে ব্যাঙাচির মতো এই মাছ আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে দেশের অনেক অঞ্চল থেকে।


ব্যাঙাচির মতো অদ্ভুত গড়ন

কটকটি মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Chaca chaca। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘Squarehead Catfish’ নামে পরিচিত। মাথা চওড়া ও চ্যাপ্টা, শরীর সামনে মোটা আর পেছনের দিকে সরু—দেখতে প্রায় ব্যাঙাচির মতোই।

আরও পড়ুনঃ  ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নতুন পে-স্কেল

কাদামাটির রঙের কারণে এটি সহজেই পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, ফলে শত্রুর চোখ এড়িয়ে লুকিয়ে থাকা সহজ হয়।


নামের পেছনের গল্প

গ্রামের মানুষের মতে, মাছটি ধরলে নড়াচড়ার সময় ‘কটকট’ ধরনের শব্দ করত। সেই শব্দ থেকেই নাম হয়েছে ‘কটকটি’। বিজ্ঞানীরাও জানান, এই প্রজাতির ক্যাটফিশ শব্দ তৈরি করতে সক্ষম—যা একটি বিরল বৈশিষ্ট্য।

আরও পড়ুনঃ  অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

ধৈর্যশীল শিকারি

এই মাছ সাধারণত কাদামাটির তলদেশে লুকিয়ে থাকে এবং ছোট মাছ বা জলজ প্রাণী হঠাৎ আক্রমণ করে শিকার করে। বাস্তুতন্ত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


দেখতে অদ্ভুত, স্বাদে অসাধারণ

দেখতে ভয়ংকর হলেও কটকটি মাছের মাংস নরম ও সুস্বাদু। ছোট কাঁটার ঝামেলা প্রায় নেই বললেই চলে। গ্রামীণ রান্নায় আলু, বেগুন ও মশলা দিয়ে এর ঝোল ছিল বেশ জনপ্রিয়।


বিপন্ন অবস্থায় কটকটি

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য তালিকায় Chaca chaca এখন ‘Endangered’ বা বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। অনেক এলাকায় বহু বছর ধরে এই মাছ আর দেখা যায় না।

আরও পড়ুনঃ  ইসলামী ব্যাংককে আরও ২৫০০ কোটি টাকা ধার

কেন হারিয়ে যাচ্ছে?

জলাভূমি ভরাট, কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহার, জলাশয় শুকিয়ে ফেলা এবং বাণিজ্যিক মাছ চাষের প্রসার—সব মিলিয়ে এই দেশি প্রজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।


হারিয়ে যাচ্ছে একটি ঐতিহ্যও

কটকটি মাছ শুধু একটি প্রজাতি নয়, এটি গ্রামীণ স্মৃতি ও খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। এর বিলুপ্তি মানে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই দেশীয় জলজ প্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কটকটির মতো আরও বহু প্রজাতি শুধু ইতিহাসে থেকে যাবে।