কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সাবেক জনপ্রতিনিধি ও প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের মৃত্যুর খবর পেয়ে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ তার বাড়িতে ছুটে যান। মঙ্গলবার তার জানাজার সময়ও মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন তারা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাদ জোহর কটিয়াদী বাজার দরগা জামে মসজিদে আব্দুর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। মসজিদ প্রাঙ্গণের বাইরে শোকাহত অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী অনেকেই। তাদের অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, মুখে ছিল শোকের ছাপ।
স্থানীয়রা জানান, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও আব্দুর রহমানের সঙ্গে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। তার মৃত্যুতে ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন।
উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন বোয়ালিয়া তাহেরা নূর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইন্দ্রজিত কুমার সাহা, কটিয়াদী ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সুজিত কুমার সাহা, ভোগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মধুসূদন সাহা এবং কটিয়াদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা।
কটিয়াদী পৌরসভার পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। তিনি দীর্ঘদিন স্থানীয় দরগাহ জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তার অবদান ছিল।
জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ইন্দ্রজিত কুমার সাহা বলেন, আব্দুর রহমান ছিলেন এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ী। তার প্রয়াত বাবার সঙ্গে আব্দুর রহমানের গভীর সম্পর্ক ছিল। তাই শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে তিনি উপস্থিত হয়েছেন।
সুজিত কুমার সাহা বলেন, আব্দুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ। তাদের পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তার শেষ বিদায়ের সময়ে উপস্থিত হতে পেরে তারা নিজেদের কর্তব্য মনে করেছেন।
সাবেক কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ধর্ম কারও সম্পর্ক আলাদা করে না। আব্দুর রহমান ছিলেন সাদা মনের মানুষ। তার মৃত্যুতে তিনিও গভীরভাবে শোকাহত।
প্রতিবেদকের নাম 



















