ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

পাহাড়ি ঢলে বিলীনের পথে সাতছড়ির ত্রিপুরা পল্লী, ঝুঁকিতে ২৪ পরিবার

 

 

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন একটি ত্রিপুরা পল্লী ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতঘর ধসে গেছে এবং ২৪টি পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ করা না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই পুরো পল্লী বিলীন হয়ে যেতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি বর্ষায় দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির কারণে সাতছড়ার পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি পরিবারের একমাত্র যোগাযোগ সড়কটি ভেঙে পড়েছে। গাইডওয়াল না থাকায় টিলা ধসে কয়েকটি বসতঘর ছড়ায় বিলীন হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে সড়কটি ভাঙা থাকায় এলাকাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন। বর্তমানে স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে চলাচল করছেন, যা বর্ষাকালে আরও দুরূহ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ  নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাইলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

পল্লীবাসীদের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙনে তাদের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ বছর পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ।

স্থানীয় বাসিন্দা আশিষ দেববর্মা বলেন, গত বছর ভাঙনে তিনটি ঘর বিলীন হয়েছিল। এবার পুরো গ্রামই হুমকির মুখে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা ওয়াসার নতুন চেয়ারম্যান হলেন ড. সব্বির মোস্তফা খান

ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত দেববর্মা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার ও ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, চলতি বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে পুরো পল্লী টিকে থাকা নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।

সাতছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করা গেলে আপাতত ত্রিপুরা পল্লীকে টিলা ধসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, এবারের ভূমিধসে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গণতন্ত্র টিকলে এগোবে বাংলাদেশ, স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি হলে দেশ পিছিয়ে পড়বে: ডিএসসিসি প্রশাসক

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরা পল্লীর ভাঙন রোধে বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর বিকল্প আবাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পাহাড়ি ঢলে বিলীনের পথে সাতছড়ির ত্রিপুরা পল্লী, ঝুঁকিতে ২৪ পরিবার

আপডেটের সময়: ০৮:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

 

 

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন একটি ত্রিপুরা পল্লী ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতঘর ধসে গেছে এবং ২৪টি পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ করা না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই পুরো পল্লী বিলীন হয়ে যেতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি বর্ষায় দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির কারণে সাতছড়ার পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি পরিবারের একমাত্র যোগাযোগ সড়কটি ভেঙে পড়েছে। গাইডওয়াল না থাকায় টিলা ধসে কয়েকটি বসতঘর ছড়ায় বিলীন হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে সড়কটি ভাঙা থাকায় এলাকাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন। বর্তমানে স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে চলাচল করছেন, যা বর্ষাকালে আরও দুরূহ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ  ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫৮০

পল্লীবাসীদের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙনে তাদের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ বছর পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ।

স্থানীয় বাসিন্দা আশিষ দেববর্মা বলেন, গত বছর ভাঙনে তিনটি ঘর বিলীন হয়েছিল। এবার পুরো গ্রামই হুমকির মুখে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিষিদ্ধ

ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত দেববর্মা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার ও ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, চলতি বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে পুরো পল্লী টিকে থাকা নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।

সাতছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করা গেলে আপাতত ত্রিপুরা পল্লীকে টিলা ধসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, এবারের ভূমিধসে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ‘শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে বিরোধী দল’

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরা পল্লীর ভাঙন রোধে বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর বিকল্প আবাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।