জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’, ‘জঙ্গি’ ও ‘মাদকাসক্ত’ আখ্যা দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
২০২৪ সালের ২২ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছিলেন, আন্দোলনকারীদের আচরণ, পোশাক ও কর্মকাণ্ড দেখে তাদের ‘কোমলমতি শিক্ষার্থী’ মনে হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেককে মাদক দেওয়া হয়েছিল। তার এসব মন্তব্য সে সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে আরাফাত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান। বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যা ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তার নাম রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ীতে ফল ব্যবসায়ী ফরিদ শেখ হত্যা, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১২ বছর বয়সী জোবাইদ হোসেন ইমন হত্যাকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোডে মেহেদী হত্যা, যাত্রাবাড়ীতে সাংবাদিক মেহেদী হাসান হত্যা এবং হাতিরঝিলে অটোরিকশাচালক বাবু মোল্লা হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) মোহাম্মদ আলী আরাফাত, তার স্ত্রী এবং তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশ দেয়।
পরবর্তীতে একই বছরের ২৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি।
প্রতিবেদকের নাম 



















