পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আজমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর জন্য বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষককে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এ সময় সহকারী শিক্ষক আকলিমা আক্তারকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিক্ষোভের কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বিদ্যালয়ে যান। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ছেড়ে চলে যান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক নুর আজমকে সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার বিভিন্ন সময়ে হেনস্তা ও হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। এসব ঘটনায় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে দাবি করেন তারা। সোমবার দুপুরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে নুর আজমের মৃত্যু হয়। ওই রাতেই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে গিয়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নুর আজমের ভাগনে আব্দুস সালাম মিঠু বলেন, সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার প্রায়ই তার মামার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। তাদের অপেশাদার আচরণ ও অত্যাচারের কারণেই প্রধান শিক্ষক হঠাৎ মারা গেছেন বলে তারা মনে করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রায় ৪০ দিন আগে একটি বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি ও কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে বিষয়টি মিটে যায় এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু লোকজন দলবদ্ধ হয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাস্থলে থাকা পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, প্রধান শিক্ষক নুর আজমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সকালে বিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, খবর পেয়ে তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযোগ ওঠা দুই শিক্ষকের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি সহায়তায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তারা পরদিন বিদ্যালয়ে আসবেন কি না এবং তাদের পাঠদানের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ নির্ধারণ করবে।
প্রতিবেদকের নাম 


























