ময়উন দ্বীপে সশস্ত্র যোদ্ধাদের অবস্থান | গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত ময়উন বা পেরিম দ্বীপ দখলের মাধ্যমে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। শুক্রবার দ্বীপটিতে সশস্ত্র হুথি যোদ্ধাদের অবস্থানের খবর পাওয়া গেছে।
বাব আল-মান্দেবের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা ময়উন দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। এই দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রণালির নৌ চলাচলের ওপর নজরদারি ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়।
সরকারি বাহিনী সরে যাওয়ার পর দ্বীপে হুথিরা
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইয়েমেনি সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ময়উন দ্বীপ থেকে সরকারি বাহিনী প্রত্যাহারের পর হুথি যোদ্ধাদের বহনকারী কয়েকটি নৌযান সেখানে পৌঁছায়। এরপর তারা দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেবের উপকূলীয় এলাকায় সশস্ত্র হুথি যোদ্ধাদের মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সামরিক যান নিয়ে এলাকায় চলাচল করতেও দেখা গেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব?
প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। সংকীর্ণ এই জলপথ একদিকে লোহিত সাগরকে অন্যদিকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে এর কৌশলগত গুরুত্বও ব্যাপক। এই পথ দিয়েই সুয়েজ খালের সঙ্গে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্র যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়।
জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রেও বাব আল-মান্দেব গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্র উপকূলীয় তেলক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
সংঘাতের নতুন উত্তাপ
গত সপ্তাহে বাব আল-মান্দেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে হুথিদের হামলা শুরুর পর থেকে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এতে কয়েক শ মানুষ নিহত এবং হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ময়উন দ্বীপে হুথিদের অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ দ্বীপটির অবস্থান সরাসরি বাব আল-মান্দেবের নৌপথের মাঝামাঝি হওয়ায় এর সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
হরমুজ সংকটের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
এই অবস্থায় হুথিরা যদি প্রণালিটির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য এ পথে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
বাব আল-মান্দেব ঘিরে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু ইয়েমেন বা লোহিত সাগর অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন ও বৈশ্বিক সর
প্রতিবেদকের নাম 




















