আজ বুধবার, ১২ রবিউল আউয়াল। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি মুসলিমরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করছেন।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা বহন করে। তাঁর চরিত্রে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা ও মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পৃথক বাণী দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ বিশ্বমানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। তিনি নারী, শিশু, প্রতিবেশী, শ্রমজীবী, দরিদ্র, এতিম ও অসহায় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে কোনো মানুষকে অবজ্ঞা না করার শিক্ষাও তিনি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা অনুসরণ করে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণে তাঁর আদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ক্ষমাশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এসব মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.) মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বানের পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে রয়েছে।
এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) শান্তিপূর্ণভাবে পালনে দেশজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ ও র্যাব নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার প্যাট্রলিং বাড়িয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, নাশকতা কিংবা গুজব মোকাবিলায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ তাঁর জন্মের আগেই মারা যান এবং ছয় বছর বয়সে তিনি মা আমিনাকে হারান। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
পবিত্র এই দিনটি উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-খয়রাত ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। অনেকেই এ উপলক্ষে নফল রোজাও রাখছেন।
মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠাই হতে পারে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের অন্যতম তাৎপর্য।
প্রতিবেদকের নাম 




















