ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আইনি খরচ জোগাতে ফের মাদক ব্যবসায়, ১৪৭ ইয়াবাসহ ‘টোয়েন্টি জসিম’ গ্রেপ্তার একদিনের ছুটি নিলেই টানা ৪ দিনের অবকাশ, মিলাদুন্নবীতে সরকারি ছুটি প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ হাব’, স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা থাইল্যান্ডের দক্ষিণে একযোগে ৫০টির বেশি স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তথ্য সংগ্রহ করে ডলারে চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৪ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাওনা টাকার চাপে অটোরিকশা ছিনতাই, চালক হত্যায় গ্রেপ্তার ২ পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি ভবন নির্মাণে আইন ভাঙার সুযোগ আর থাকছে না: গৃহায়নমন্ত্রী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াতের ক্ষোভ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চারজন হত্যায় আটক ২, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াই কারণ!

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩) নামে ওই দুই যুবককে আটক করা হয়।
রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করছিলেন। তারা প্রায়ই সেখানে মাদক সেবন ও আড্ডা দিতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
ওই রাতে গণপতি চক্রবর্তী তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলেন। এরপর তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদের দেখে ফেলায় তাদেরও হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য দিয়েছেন আটকরা।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান তারা। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণপতির মরদেহ পাওয়া যায় তার দোতলা বাড়ির ছাদে। তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগমনী চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায় খাটের নিচে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের কাউকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার রাতের দিকে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পরিবারের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির তালা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। শনিবার তাদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সব ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্বজনদের নিয়ে বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা।
তিনি জানান, এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। ওই সময় বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর রংপুর সমবায় মার্কেটের একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন তিনি।
তার মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাস্টার্স শেষ করে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না এবং ঘটনার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ বাড়লে ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আইনি খরচ জোগাতে ফের মাদক ব্যবসায়, ১৪৭ ইয়াবাসহ ‘টোয়েন্টি জসিম’ গ্রেপ্তার

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চারজন হত্যায় আটক ২, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াই কারণ!

আপডেটের সময়: ০৪:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩) নামে ওই দুই যুবককে আটক করা হয়।
রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করছিলেন। তারা প্রায়ই সেখানে মাদক সেবন ও আড্ডা দিতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
ওই রাতে গণপতি চক্রবর্তী তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলেন। এরপর তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদের দেখে ফেলায় তাদেরও হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য দিয়েছেন আটকরা।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান তারা। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণপতির মরদেহ পাওয়া যায় তার দোতলা বাড়ির ছাদে। তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগমনী চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায় খাটের নিচে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের কাউকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার রাতের দিকে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পরিবারের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির তালা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। শনিবার তাদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সব ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্বজনদের নিয়ে বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা।
তিনি জানান, এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। ওই সময় বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর রংপুর সমবায় মার্কেটের একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন তিনি।
তার মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাস্টার্স শেষ করে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না এবং ঘটনার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  স্টার্কের তোপে ফের ব্যাটিং বিপর্যয়, ম্যাকাই টেস্টে চাপে বাংলাদেশ