যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকি উপেক্ষা করে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা হবে না এবং দেশে থাকা ইউরেনিয়ামের মজুদও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হবে না।
সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (এইওআই) প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি তেহরানের এ অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক জ্বালানি মজুদ করা ইরানের বৈধ অধিকার।
ইসলামি বলেন, চিকিৎসাসহ দেশের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানো এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, ইরানের এই কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার চাপের প্রসঙ্গ তুলে ইরানের এই কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সমৃদ্ধকরণ কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; বরং এটি পুরো প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানের সমালোচনাও করেন ইসলামি। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজেও জাতীয় উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেয়। এ অবস্থায় ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন দাবির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার কথা বলে আসছে। অন্যদিকে, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে নিজেদের অধিকার হিসেবে তুলে ধরে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আরও জোরালো হয়েছে। তবে মোহাম্মদ ইসলামির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা বা মজুদ হস্তান্তরের বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান।
প্রতিবেদকের নাম 




















