ইরানের সঙ্গে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন কংগ্রেসের নিরপেক্ষ বাজেট বিশ্লেষণ সংস্থা কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে এই ব্যয় আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার করে বাড়তে পারে।
সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে ২০২৭ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি অতিরিক্ত প্রায় ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে। যুদ্ধের ব্যয়ের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও তেলের দাম বৃদ্ধিও এ চাপ বাড়াচ্ছে।
অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতির আশঙ্কা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার মজুত চাপে পড়েছে। এসব অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
এর ফলে চীন বা বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাত দেখা দিলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে অস্ত্রের ঘাটতির এই আশঙ্কার সঙ্গে একমত নয় হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্টের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য মার্কিন বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনাও
যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো, যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের হিসাবে, জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত যুদ্ধসংশ্লিষ্ট ক্ষতির পরিমাণই ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।
হরমুজ ঘিরে জ্বালানি বাজারে চাপ
ইরান যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাড়ছে বাজেটের চাপ
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ব্যয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণও ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ায় সামরিক সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন বিরোধী দলীয় নেতারা যুদ্ধের ব্যয় ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সিবিওর ৩৮ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের মধ্যে যুদ্ধের সাম্প্রতিক কিছু সামরিক অভিযান এবং ঋণ নিয়ে সুদ পরিশোধের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রকৃত ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















