কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত বদলে দিচ্ছে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রের চিত্র। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই প্রশাসনিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক অনেক কাজ এআই দিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে কোন পেশা টিকে থাকবে আর কোন চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে—তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় করলেও মানবিক বিচার-বিবেচনা, সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগনির্ভর পেশাগুলোর গুরুত্ব দীর্ঘদিন বজায় থাকবে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রেসক্রিপশন প্রক্রিয়াকরণ, রোগীর তথ্য যাচাই, কল সেন্টার ও প্রশাসনিক দায়িত্বের মতো কাজগুলোতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়বে। তবে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্টসহ স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের বিকল্প হিসেবে এআইকে এখনই দেখা যাচ্ছে না। কারণ রোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষেরই নিতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক সার্জারির মতো ব্যক্তিনির্ভর চিকিৎসাক্ষেত্রে এআই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে রেডিওলজির মতো স্ক্যান বিশ্লেষণনির্ভর বিভাগে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
শিক্ষা খাতেও প্রশাসনিক ও রুটিনভিত্তিক কাজের বড় অংশ এআই করতে পারলেও শিক্ষকতার গুরুত্ব কমবে না। শিক্ষার্থীদের শেখানো, মানসিক সহায়তা দেওয়া এবং মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজ এখনো মানুষের ওপরই নির্ভরশীল। একইভাবে শিশু পরিচর্যা, ব্যক্তিগত টিউটরিং ও ডে-কেয়ার সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোর চাহিদাও বজায় থাকবে।
আইন পেশায় দলিল পর্যালোচনা, তথ্য সংগ্রহ ও খসড়া তৈরির মতো কাজ এআই সহজেই করতে পারবে। ফলে প্যারালিগ্যাল ও নবীন আইনজীবীদের কাজের ধরনে পরিবর্তন আসবে। তবে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন, জটিল আইনি বিশ্লেষণ, ক্লায়েন্ট পরিচালনা এবং এআইয়ের কাজ তদারকিতে দক্ষ আইনজীবীর প্রয়োজন আগের মতোই থাকবে।
হোটেল ও আতিথেয়তা খাতে বুকিং, ই-মেইল ব্যবস্থাপনা ও তথ্যসেবা স্বয়ংক্রিয় হলেও অতিথিকে ব্যক্তিগতভাবে সেবা দেওয়া এবং সমস্যা সমাধানে মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য থাকবে। একইভাবে সৃজনশীল শেফদের কাজও সহজে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।
নির্মাণ খাতে ইটের কাজ, কাঠমিস্ত্রি, প্লাস্টারিংসহ হাতে-কলমে দক্ষতাভিত্তিক পেশাগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও বড় প্রকল্পে ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে।
ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে কল সেন্টার, গ্রাহকসেবা, আইটি সহায়তা এবং মধ্যপর্যায়ের প্রশাসনিক কাজগুলোতে এআইয়ের প্রভাব বাড়বে। অন্যদিকে তথ্যবিজ্ঞানী, এআই প্রকৌশলী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, ঝুঁকি বিশ্লেষক, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক ও গবেষণা বিশ্লেষকদের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মবাজারে সফল হবেন তারাই, যারা এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। মানবিক দক্ষতা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতার সমন্বয়ই আগামী দিনের চাকরির বাজারে সবচেয়ে বড় শক্তি হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















