ঢাকা ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভর্তি না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হ্যাক রক্তমাখা সেই জাতীয় পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন জুলাইযোদ্ধা শেখ আজিজুর স্টেশনে ট্রেন রেখে উধাও চালক, এক ঘণ্টা পর ফিরতেই গন্তব্যের পথে সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস পুলিশ পরিচয়ে গভীর রাতে রিসোর্টে ডাকাতি, কর্মচারীদের জিম্মি করে লুট জিয়ার সৈনিকরা গত ১৬-১৭ বছরে শেখ হাসিনার একটি চুলও বাঁকা করতে পারেনি: সারজিস আলম  ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল, কবে, কখন ও কোথায় হবে ঐতিহাসিক ম্যাচ? বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে: সারজিস বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে ফলপ্রসূ আলোচনা: ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর বগুড়ায় ক্লিনিককে ৬০ হাজার, ভুয়া চিকিৎসককে ১ লাখ টাকা জরিমানা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৬৫তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

এআইয়ের যুগে কোন চাকরি ঝুঁকিতে, কোন পেশার চাহিদা বাড়বে?

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০২:৩০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত বদলে দিচ্ছে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রের চিত্র। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই প্রশাসনিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক অনেক কাজ এআই দিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে কোন পেশা টিকে থাকবে আর কোন চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে—তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় করলেও মানবিক বিচার-বিবেচনা, সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগনির্ভর পেশাগুলোর গুরুত্ব দীর্ঘদিন বজায় থাকবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রেসক্রিপশন প্রক্রিয়াকরণ, রোগীর তথ্য যাচাই, কল সেন্টার ও প্রশাসনিক দায়িত্বের মতো কাজগুলোতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়বে। তবে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্টসহ স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের বিকল্প হিসেবে এআইকে এখনই দেখা যাচ্ছে না। কারণ রোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষেরই নিতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  এক দশকের অপেক্ষার অবসান, আনোয়ারায় শুরু ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ-চীন শিল্পাঞ্চলের নির্মাণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক সার্জারির মতো ব্যক্তিনির্ভর চিকিৎসাক্ষেত্রে এআই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে রেডিওলজির মতো স্ক্যান বিশ্লেষণনির্ভর বিভাগে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও দ্রুত বাড়তে পারে।

শিক্ষা খাতেও প্রশাসনিক ও রুটিনভিত্তিক কাজের বড় অংশ এআই করতে পারলেও শিক্ষকতার গুরুত্ব কমবে না। শিক্ষার্থীদের শেখানো, মানসিক সহায়তা দেওয়া এবং মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজ এখনো মানুষের ওপরই নির্ভরশীল। একইভাবে শিশু পরিচর্যা, ব্যক্তিগত টিউটরিং ও ডে-কেয়ার সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোর চাহিদাও বজায় থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ

আইন পেশায় দলিল পর্যালোচনা, তথ্য সংগ্রহ ও খসড়া তৈরির মতো কাজ এআই সহজেই করতে পারবে। ফলে প্যারালিগ্যাল ও নবীন আইনজীবীদের কাজের ধরনে পরিবর্তন আসবে। তবে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন, জটিল আইনি বিশ্লেষণ, ক্লায়েন্ট পরিচালনা এবং এআইয়ের কাজ তদারকিতে দক্ষ আইনজীবীর প্রয়োজন আগের মতোই থাকবে।

হোটেল ও আতিথেয়তা খাতে বুকিং, ই-মেইল ব্যবস্থাপনা ও তথ্যসেবা স্বয়ংক্রিয় হলেও অতিথিকে ব্যক্তিগতভাবে সেবা দেওয়া এবং সমস্যা সমাধানে মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য থাকবে। একইভাবে সৃজনশীল শেফদের কাজও সহজে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

নির্মাণ খাতে ইটের কাজ, কাঠমিস্ত্রি, প্লাস্টারিংসহ হাতে-কলমে দক্ষতাভিত্তিক পেশাগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও বড় প্রকল্পে ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ইবিএলের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আনিস আহমেদ

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে কল সেন্টার, গ্রাহকসেবা, আইটি সহায়তা এবং মধ্যপর্যায়ের প্রশাসনিক কাজগুলোতে এআইয়ের প্রভাব বাড়বে। অন্যদিকে তথ্যবিজ্ঞানী, এআই প্রকৌশলী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, ঝুঁকি বিশ্লেষক, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক ও গবেষণা বিশ্লেষকদের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মবাজারে সফল হবেন তারাই, যারা এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। মানবিক দক্ষতা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতার সমন্বয়ই আগামী দিনের চাকরির বাজারে সবচেয়ে বড় শক্তি হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভর্তি না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হ্যাক

এআইয়ের যুগে কোন চাকরি ঝুঁকিতে, কোন পেশার চাহিদা বাড়বে?

আপডেটের সময়: ০২:৩০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত বদলে দিচ্ছে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রের চিত্র। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই প্রশাসনিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক অনেক কাজ এআই দিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে কোন পেশা টিকে থাকবে আর কোন চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে—তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় করলেও মানবিক বিচার-বিবেচনা, সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগনির্ভর পেশাগুলোর গুরুত্ব দীর্ঘদিন বজায় থাকবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রেসক্রিপশন প্রক্রিয়াকরণ, রোগীর তথ্য যাচাই, কল সেন্টার ও প্রশাসনিক দায়িত্বের মতো কাজগুলোতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়বে। তবে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্টসহ স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের বিকল্প হিসেবে এআইকে এখনই দেখা যাচ্ছে না। কারণ রোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষেরই নিতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  প্রতিবেদন প্রকাশের পরই করতোয়ার ভাঙন রোধে শুরু জরুরি ব্যবস্থা

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক সার্জারির মতো ব্যক্তিনির্ভর চিকিৎসাক্ষেত্রে এআই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে রেডিওলজির মতো স্ক্যান বিশ্লেষণনির্ভর বিভাগে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও দ্রুত বাড়তে পারে।

শিক্ষা খাতেও প্রশাসনিক ও রুটিনভিত্তিক কাজের বড় অংশ এআই করতে পারলেও শিক্ষকতার গুরুত্ব কমবে না। শিক্ষার্থীদের শেখানো, মানসিক সহায়তা দেওয়া এবং মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজ এখনো মানুষের ওপরই নির্ভরশীল। একইভাবে শিশু পরিচর্যা, ব্যক্তিগত টিউটরিং ও ডে-কেয়ার সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোর চাহিদাও বজায় থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  চলতি বছরের শেষেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে: মির্জা ফখরুল

আইন পেশায় দলিল পর্যালোচনা, তথ্য সংগ্রহ ও খসড়া তৈরির মতো কাজ এআই সহজেই করতে পারবে। ফলে প্যারালিগ্যাল ও নবীন আইনজীবীদের কাজের ধরনে পরিবর্তন আসবে। তবে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন, জটিল আইনি বিশ্লেষণ, ক্লায়েন্ট পরিচালনা এবং এআইয়ের কাজ তদারকিতে দক্ষ আইনজীবীর প্রয়োজন আগের মতোই থাকবে।

হোটেল ও আতিথেয়তা খাতে বুকিং, ই-মেইল ব্যবস্থাপনা ও তথ্যসেবা স্বয়ংক্রিয় হলেও অতিথিকে ব্যক্তিগতভাবে সেবা দেওয়া এবং সমস্যা সমাধানে মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য থাকবে। একইভাবে সৃজনশীল শেফদের কাজও সহজে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

নির্মাণ খাতে ইটের কাজ, কাঠমিস্ত্রি, প্লাস্টারিংসহ হাতে-কলমে দক্ষতাভিত্তিক পেশাগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও বড় প্রকল্পে ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে কল সেন্টার, গ্রাহকসেবা, আইটি সহায়তা এবং মধ্যপর্যায়ের প্রশাসনিক কাজগুলোতে এআইয়ের প্রভাব বাড়বে। অন্যদিকে তথ্যবিজ্ঞানী, এআই প্রকৌশলী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, ঝুঁকি বিশ্লেষক, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক ও গবেষণা বিশ্লেষকদের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মবাজারে সফল হবেন তারাই, যারা এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। মানবিক দক্ষতা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতার সমন্বয়ই আগামী দিনের চাকরির বাজারে সবচেয়ে বড় শক্তি হবে।