
প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের মধ্যেই শ্রম অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক রায় দিয়েছে চীনের আদালত। শুধুমাত্র খরচ কমানোর জন্য কর্মীদের ছাঁটাই করে তাদের জায়গায় এআই ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চীনের হাংঝৌ ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট সম্প্রতি একাধিক শ্রমবিরোধ সংক্রান্ত মামলার রায় প্রকাশ করে, যেখানে এআই-নির্ভর কর্মী প্রতিস্থাপনকে কেন্দ্র করে একটি বহুল আলোচিত মামলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের এক কর্মী—ঝৌ পদবীর—পদ পরিবর্তন করে বেতন কমিয়ে দেয়। আগে তিনি মাসে ২৫ হাজার ইউয়ান পেতেন, যা কমিয়ে ১৫ হাজার ইউয়ান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে কাজটি আরও কম খরচে করা সম্ভব।
কিন্তু কর্মীটি বেতন কমানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরে তিনি শ্রম সালিশে আবেদন করলে রায় তার পক্ষে যায়। বিষয়টি আদালতে গড়ালে ইউহাং জেলা আদালতও এই বরখাস্তকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, শুধুমাত্র এআই কম খরচে কাজ করতে পারবে—এটি কোনো কর্মীকে ছাঁটাইয়ের বৈধ কারণ হতে পারে না। এটি ব্যবসা বন্ধ, বড় ধরনের আর্থিক সংকট বা আইনি “গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন” হিসেবে বিবেচিত হয় না।
এছাড়া আদালত উল্লেখ করে, কর্মীর জন্য প্রস্তাবিত নতুন পদে বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা যুক্তিসঙ্গত সমঝোতার অংশ নয়।
পরবর্তীতে আপিল করা হলেও হাংঝৌ ইন্টারমিডিয়েট আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে।
রায়ে আরও বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসায়িক উন্নয়ন একটি স্বাভাবিক কৌশল হলেও তা কর্মীদের আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করে করা যাবে না। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন শ্রমচুক্তি বাতিলের যথেষ্ট কারণ নয়।
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, এআই ব্যবহারের লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থানকে সহায়ক করা, জীবনমান উন্নত করা এবং কাজকে সহজ করা—কর্মসংস্থান কমিয়ে দেওয়া নয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















