গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অংক না পারায় পাঁচ কিশোরীসহ সাত শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের দাগ হয়েছে। লোকলজ্জার কারণে তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক অভিভাবক।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বেলকা মডেল কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে।
অংক না পারায় মারধরের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজি ক্লাস শেষে অংক শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন আকন্দ শ্রেণিকক্ষে এসে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি অংক করতে দেন। দু-একজন শিক্ষার্থী অংকগুলো করতে পারলেও অনেকেই আগে শেখানো হয়নি এমন অংক হওয়ায় তা সমাধান করতে পারেনি।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে সুমাইয়া, জেসমিন, হামিদা, ঐশি হক, রওজা, মাহি ও খুশি রয়েছে।
শিক্ষকের মারধরে শিক্ষার্থীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষক স্কুল ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাড়িতে ফিরে কান্না শিক্ষার্থীদের
স্কুল ছুটির পর বাড়িতে ফিরে শিক্ষার্থীরা বাবা-মাকে আঘাতের স্থান দেখিয়ে কান্নাকাটি করে। তারা ওই স্কুলে আর যাবে না বলেও জানিয়েছে।
এক অভিভাবক এনামুল হক বলেন, লোকলজ্জার কারণে আহত শিক্ষার্থীদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন।
কঞ্চি দিয়ে মারার কথা স্বীকার শিক্ষকের
অভিযুক্ত শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি লাঠি দিয়ে নয়, কঞ্চি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন বলে দাবি করেন।
বৈঠক করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ
বেলকা মডেল কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক শাজাহান সরদার বলেন, বিষয়টি সুরাহার জন্য স্কুলে বৈঠক করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি জানান, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















