
দেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গাজীপুর, সাভারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। খাত সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী মাসগুলোতে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঈদের পর থেকে ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের প্রবণতা বেড়েছে। গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। অনেক শ্রমিকের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, ডলার সংকট, উচ্চ সুদের ঋণ এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান চাপের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও ইনক্রিমেন্টের কারণে শ্রম ব্যয়ও বেড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য বলছে, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ডারের অভাব, আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ, জ্বালানি ঘাটতি ও ব্যাংকিং সমস্যাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, অনেক ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও চাকরি-পরবর্তী সুবিধা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তাদের মতে, ব্যবসায়িক মন্দাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে শ্রমিক ছাঁটাই করছে।
অন্যদিকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী তিন বছরে প্রায় ২২ হাজার ৮১৫ জন পোশাক শ্রমিক ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তাই কর্মসংস্থান রক্ষা, ঝুঁকিতে থাকা কারখানাগুলোকে সহায়তা দেওয়া, নতুন বাজার খোঁজা এবং আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















