ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ড্রোনেও ইয়াবা ঢুকছে, পরিকল্পিতভাবে মাদক আনার অভিযোগ আইনমন্ত্রীর ঢাকা ইপিজেডে প্যাক্সার বাংলাদেশের স্মার্ট ওয়্যারহাউজ উদ্বোধন ওমরাহ পালনে সৌদি আরবের পথে চিফ হুইপ দেশে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন, ৫২ কিলোমিটার রুটে বদলে যাবে রেলযাত্রা  হচ্ছে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ঝিনাইদহে ডিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তল জব্দ, অস্ত্র আইনে মামলা সান্তাহারে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, এএসআই ক্লোজ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা, সঙ্গে রাখতে হবে বৈধ কাগজপত্র বরিস জনসনের ট্রেন সীমান্ত পার হতেই রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা যশোরে আ. লীগের ২৭ নেতাকর্মীসহ ১৫৫ জন কারাগারে
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

কোরবানির চামড়া: সম্ভাবনার অর্থনীতি ও চামড়াশিল্পের নতুন চ্যালেঞ্জ

 

 

বাংলাদেশে ঈদুল আজহা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সমাজকল্যাণের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। প্রতি বছর কোরবানির পশুর চামড়াকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার কোটি টাকার একটি মৌসুমি অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সংকট ও বাজার অস্থিরতার কারণে এই সম্ভাবনাময় খাতটি কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি।

ইসলামে কোরবানির চামড়া ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করে দরিদ্র, এতিমখানা, মাদ্রাসা কিংবা জনকল্যাণমূলক কাজে দান করার নির্দেশনা রয়েছে। ফলে এই খাতের সঙ্গে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে চামড়ার সঠিক মূল্য না পাওয়ায় বহু ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া বাজারে আসে, যার অর্থনৈতিক মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা। সঠিক সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে চামড়াশিল্প দেশের অন্যতম বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ড্রোনের মাধ্যমেও ইয়াবা আসছে, পরিকল্পিতভাবে মাদক ঢোকানো হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

এবারের ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকার চামড়া সংরক্ষণে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে কাঁচা চামড়ার গুণগত মান বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দীর্ঘদিনের অপচয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চামড়াশিল্পের আরেকটি বড় সমস্যা ছিল পরিবেশদূষণ ও অপরিকল্পিত ট্যানারি ব্যবস্থাপনা। বর্তমানে সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার উন্নয়নসহ পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পরিবেশগত মান পূরণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি

অর্থনৈতিক দিক থেকেও খাতটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রান্তিক চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ গ্রহণ সহজ করেছে, ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কার্যকর মূলধন পাচ্ছেন। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় গতিশীলতা বাড়ছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের একচেটিয়া প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প একসময় শক্ত অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অবস্থান দুর্বল হয়েছে। তবে ইতালি, চীন ও ভারতের মতো দেশের মডেল অনুসরণ করে যদি বাংলাদেশ কাঁচা চামড়ার পরিবর্তে ফিনিশড লেদার ও ব্র্যান্ডভিত্তিক পণ্যের দিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে এই খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চামড়া সংগ্রহ করলেই হবে না; প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এ কারণে সরকার ডিজাইনিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কেন্দ্র থেকে তৃণমূল—বড় সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে বিএনপি

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাও চামড়াশিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রান্তিক সংগ্রাহকেরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এই শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও অনিয়মিত আবহাওয়া চামড়া সংরক্ষণে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পনীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক নীতি, কার্যকর তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প আবারও দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাতে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে কোরবানির প্রকৃত সামাজিক উদ্দেশ্য—দরিদ্র মানুষের কল্যাণ ও সম্পদের ন্যায্য বণ্টন—বাস্তবায়নেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।


T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ড্রোনেও ইয়াবা ঢুকছে, পরিকল্পিতভাবে মাদক আনার অভিযোগ আইনমন্ত্রীর

কোরবানির চামড়া: সম্ভাবনার অর্থনীতি ও চামড়াশিল্পের নতুন চ্যালেঞ্জ

আপডেটের সময়: ০৬:৩৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

 

 

বাংলাদেশে ঈদুল আজহা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সমাজকল্যাণের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। প্রতি বছর কোরবানির পশুর চামড়াকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার কোটি টাকার একটি মৌসুমি অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সংকট ও বাজার অস্থিরতার কারণে এই সম্ভাবনাময় খাতটি কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি।

ইসলামে কোরবানির চামড়া ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করে দরিদ্র, এতিমখানা, মাদ্রাসা কিংবা জনকল্যাণমূলক কাজে দান করার নির্দেশনা রয়েছে। ফলে এই খাতের সঙ্গে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে চামড়ার সঠিক মূল্য না পাওয়ায় বহু ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া বাজারে আসে, যার অর্থনৈতিক মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা। সঠিক সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে চামড়াশিল্প দেশের অন্যতম বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  জবাবদিহি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একসঙ্গে এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ

এবারের ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকার চামড়া সংরক্ষণে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে কাঁচা চামড়ার গুণগত মান বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দীর্ঘদিনের অপচয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চামড়াশিল্পের আরেকটি বড় সমস্যা ছিল পরিবেশদূষণ ও অপরিকল্পিত ট্যানারি ব্যবস্থাপনা। বর্তমানে সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার উন্নয়নসহ পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পরিবেশগত মান পূরণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  ড্রোনের মাধ্যমেও ইয়াবা আসছে, পরিকল্পিতভাবে মাদক ঢোকানো হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

অর্থনৈতিক দিক থেকেও খাতটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রান্তিক চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ গ্রহণ সহজ করেছে, ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কার্যকর মূলধন পাচ্ছেন। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় গতিশীলতা বাড়ছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের একচেটিয়া প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প একসময় শক্ত অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অবস্থান দুর্বল হয়েছে। তবে ইতালি, চীন ও ভারতের মতো দেশের মডেল অনুসরণ করে যদি বাংলাদেশ কাঁচা চামড়ার পরিবর্তে ফিনিশড লেদার ও ব্র্যান্ডভিত্তিক পণ্যের দিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে এই খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চামড়া সংগ্রহ করলেই হবে না; প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এ কারণে সরকার ডিজাইনিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আগের মতো গ্যাস-বিদ্যুৎ পাবে কারখানা, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাও চামড়াশিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রান্তিক সংগ্রাহকেরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এই শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও অনিয়মিত আবহাওয়া চামড়া সংরক্ষণে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পনীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক নীতি, কার্যকর তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প আবারও দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাতে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে কোরবানির প্রকৃত সামাজিক উদ্দেশ্য—দরিদ্র মানুষের কল্যাণ ও সম্পদের ন্যায্য বণ্টন—বাস্তবায়নেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।