
ঢাকা, ৪ জুন
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতে বলেন, ঘটনার শিকার শিশু ও আসামিরা একই ভবনের পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন প্রধান আসামি সোহেল রানা শিশুটিকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, জব্দকৃত আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণে বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করে, হত্যাকাণ্ডের সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছিলেন এবং শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যে সোহেল রানাকে ভবনের জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন, সোহেল রানা নিজেই মাদকাসক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ফলে তাঁর জবানবন্দির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন না।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও সেদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়।
পরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। তবে বিচার চলাকালে তিনি ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার দাবি করেন। যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে কিংবা পুলিশি নথিতে ওই ব্যক্তির কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
সব পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামী ৭ জুন মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















