
সুস্থ থাকতে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট ও স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করেন। তবে ঘরোয়া উপায়ে সহজলভ্য দুটি উপাদান—দুধ ও মধুর সংমিশ্রণও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেশ কিছু শারীরিক সমস্যাও কমতে পারে।
অনিদ্রা দূর করতে সহায়ক
দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ঘুমের মান উন্নত করতে ভূমিকা রাখে। মধুর প্রাকৃতিক শর্করা এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা
মধুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। অন্যদিকে, দুধ শরীরকে শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। এ দুই উপাদানের সমন্বয় শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক
মধুকে প্রাকৃতিক প্রিবায়োটিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে। হালকা গরম দুধ হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখতে সহায়ক হওয়ায় নিয়মিত এ পানীয় গ্রহণে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও অস্বস্তি কমতে পারে।
হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে
দুধ ক্যালসিয়ামের অন্যতম ভালো উৎস। গবেষণায় দেখা গেছে, মধুর কিছু উপাদান শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে বয়সজনিত হাড়ক্ষয় ও জয়েন্টের ব্যথার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
ত্বক ও চুলের পরিচর্যায় সম্ভাব্য উপকার
দুধ ও মধুর পুষ্টিগুণ শরীরের ভেতর থেকে পুষ্টির জোগান দিতে সহায়তা করে। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরম দুধে মধু মেশানো উচিত নয়। দুধ ফোটানোর পর তা হালকা গরম হলে তবেই মধু মিশিয়ে পান করা ভালো। এতে মধুর প্রাকৃতিক এনজাইম ও পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে।
প্রতিবেদকের নাম 
























