ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৩ বছরের জন্য এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন কালিয়াকৈরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পেছন থেকে ধাক্কা, চালক নিহত ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৩, উদ্ধার মাদক ও স্বর্ণালংকার চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ দাবি পূরণের আশ্বাসে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির ধর্মঘট প্রত্যাহার  বাক্সের ভেতর মিলল ৫ নবজাতকের দেহাবশেষ, হত্যা মামলা তদন্তে পুলিশ ইরানে-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির যৌথ হামলা হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩ মধ্যরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

এক দশকের অপেক্ষার অবসান, আনোয়ারায় শুরু ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ-চীন শিল্পাঞ্চলের নির্মাণ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:২১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ১৬ সময় দেখুন

৮০০ একরজুড়ে গড়ে উঠছে মেগা অর্থনৈতিক অঞ্চল; ২০৩১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হলে সৃষ্টি হবে এক লাখের বেশি কর্মসংস্থান, বাড়বে বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত

দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নানা প্রক্রিয়াগত বাধা অতিক্রম করে অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন—সিইআইজেড)-এর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই মেগা প্রকল্পকে দেশের শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং রপ্তানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া এই বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুনঃ  শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে আসছে আধুনিক ৪জি-৫জি নেটওয়ার্ক

কৌশলগত অবস্থানে বাড়তি সুবিধা

চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় আনোয়ারার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও ব্যয়সাশ্রয়ী হবে।

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাস্তবায়ন

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২০১৪ সালে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর এবং ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণের পরও প্রকল্পটি দীর্ঘদিন অগ্রগতি পায়নি। প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থায়ন বিলম্ব এবং ডেভেলপার নিয়োগে বিলম্বের কারণে এটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও নতুন সমঝোতার মাধ্যমে প্রকল্পটি আবারও গতি পায়।

আরও পড়ুনঃ  এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বস্তি: কুড়িগ্রামে ৭ দিনের পরিকল্পিত লোডশেডিং স্থগিত

এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইতোমধ্যে চীনের একাধিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা বলা হয়েছে

নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়; এটি দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুনঃ  হবিগঞ্জে হামলার পর এনসিপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

তৈরি পোশাক শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক পণ্যের বড় অংশ বর্তমানে চীন থেকে আমদানি করতে হয়। আনোয়ারায় এসব কাঁচামাল উৎপাদন শুরু হলে আমদানি ব্যয় ও পরিবহন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

২০৩১ সালের মধ্যে কাজ শেষের লক্ষ্য

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৩ বছরের জন্য এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন

এক দশকের অপেক্ষার অবসান, আনোয়ারায় শুরু ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ-চীন শিল্পাঞ্চলের নির্মাণ

আপডেটের সময়: ০৭:২১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

৮০০ একরজুড়ে গড়ে উঠছে মেগা অর্থনৈতিক অঞ্চল; ২০৩১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হলে সৃষ্টি হবে এক লাখের বেশি কর্মসংস্থান, বাড়বে বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত

দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নানা প্রক্রিয়াগত বাধা অতিক্রম করে অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন—সিইআইজেড)-এর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই মেগা প্রকল্পকে দেশের শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং রপ্তানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া এই বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুনঃ  ১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা নিহতের দাবি ইরানের

কৌশলগত অবস্থানে বাড়তি সুবিধা

চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় আনোয়ারার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও ব্যয়সাশ্রয়ী হবে।

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাস্তবায়ন

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২০১৪ সালে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর এবং ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণের পরও প্রকল্পটি দীর্ঘদিন অগ্রগতি পায়নি। প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থায়ন বিলম্ব এবং ডেভেলপার নিয়োগে বিলম্বের কারণে এটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও নতুন সমঝোতার মাধ্যমে প্রকল্পটি আবারও গতি পায়।

আরও পড়ুনঃ  এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বস্তি: কুড়িগ্রামে ৭ দিনের পরিকল্পিত লোডশেডিং স্থগিত

এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইতোমধ্যে চীনের একাধিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা বলা হয়েছে

নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়; এটি দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুনঃ  শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে আসছে আধুনিক ৪জি-৫জি নেটওয়ার্ক

তৈরি পোশাক শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক পণ্যের বড় অংশ বর্তমানে চীন থেকে আমদানি করতে হয়। আনোয়ারায় এসব কাঁচামাল উৎপাদন শুরু হলে আমদানি ব্যয় ও পরিবহন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

২০৩১ সালের মধ্যে কাজ শেষের লক্ষ্য

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।