বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আদিবাসীদের নিজেদের অধিকার ও দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলতে হবে এবং আরও সোচ্চার হতে হবে।
তিনি বলেন, “আপনাদের কথা বলতে হবে, নিজেদের দাবি-দাওয়া সামনে আনতে হবে। বিএনপি এটি চায়।” এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান আদিবাসী নারী নেত্রী আন্না মিঞ্জকে এমপি মনোনীত করা হয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়িসহ পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠী থেকে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬’ অর্থবছরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ঘরের বরাদ্দপত্র, সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিগত ১৫-১৬ বছরের দুঃশাসনে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমান সরকারকে অনেক কিছু নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও বিএনপি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা এবং শুকিয়ে যাওয়া নদী-খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষির জন্য পানি সংরক্ষণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আদিবাসীদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ১০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই অর্থের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আদিবাসীদের জমি যাতে কেউ জোর করে দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক রফিকুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম, জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০ জনকে ৪৫ লাখ ৭৫ হাজার ২৮৫ টাকা ব্যয়ে বসতঘর, ৪৯ জনকে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৫ টাকা ব্যয়ে বাইসাইকেল, ৩৩ জনকে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ২৩১ টাকা ব্যয়ে সেলাই মেশিন এবং ৩২৬ জনকে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে ৪১৮ জনের মধ্যে মোট ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ১ টাকার সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















