মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের বহুল আলোচিত ‘খাইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলায় এ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার সময় ইরান একাধিক সফল হামলায় খাইবার শেকান ব্যবহার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খাইবার শেকানের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এটি সলিড ফুয়েলচালিত। ফলে আগে থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় রাখা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত বিভিন্ন মোবাইল লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। এতে শত্রুপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে দ্রুত হামলা চালানোর সুযোগ তৈরি হয়।
এ ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এটি গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। ফলে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও এটি শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাইবার শেকান তৈরির ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও এটি প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যার ব্যয় অনেক বেশি। ফলে সামরিক দিকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটি প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ থেকে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইরানের বিজ্ঞানীরা এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন করেছেন। এর ফলে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার কৌশলও তারা আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে।
২০২২ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হয় খাইবার শেকান। ক্ষেপণাস্ত্রটির একটি সংস্করণে ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়, যা নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে একাধিক ছোট বিস্ফোরক অংশে বিভক্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আঘাত হানতে সক্ষম।
ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষেও ইরান একাধিকবার খাইবার শেকান ব্যবহারের দাবি করেছে। এর পর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঐতিহাসিক খাইবার যুদ্ধের স্মরণে ক্ষেপণাস্ত্রটির নামকরণ করা হয়েছে। ৬২৮ সালে আরব উপদ্বীপের খাইবার মরূদ্যান মুসলিম বাহিনীর দখলে যাওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করেই এ নাম রাখা হয়।
তবে একটি খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ঠিক কত ব্যয় হয়, সে তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ইরান। বিশ্লেষকদের ধারণা, এর উৎপাদন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
প্রতিবেদকের নাম 




















