ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছাড়ব: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা দাবি আফরোজা আব্বাসের দাবি আন্দোলনে রাজপথে থাকা নারীদের মূল্যায়ন ছয় মাসে সরকারি খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ টন গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩২ শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ ৪ জনের মধ্যে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে কাজ করবে মহিলা দল: রিজভী ফ্রান্সে ট্রেন লাইনচ্যুত, আহত ৪৪; তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার লিভার ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাবারে যা রাখবেন, এড়িয়ে চলবেন যা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র: কেন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কেন্দ্রে ইরানের এই অস্ত্র?

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের বহুল আলোচিত ‘খাইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলায় এ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার সময় ইরান একাধিক সফল হামলায় খাইবার শেকান ব্যবহার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, খাইবার শেকানের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এটি সলিড ফুয়েলচালিত। ফলে আগে থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় রাখা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত বিভিন্ন মোবাইল লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। এতে শত্রুপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে দ্রুত হামলা চালানোর সুযোগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  বাঁধনের ওপর হামলা নিয়ে ক্ষোভ, জয়কে নিয়ে আসিফ নজরুলের প্রশ্ন

এ ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এটি গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। ফলে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও এটি শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাইবার শেকান তৈরির ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও এটি প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যার ব্যয় অনেক বেশি। ফলে সামরিক দিকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটি প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুনঃ  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ থেকে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইরানের বিজ্ঞানীরা এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন করেছেন। এর ফলে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার কৌশলও তারা আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে।

২০২২ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হয় খাইবার শেকান। ক্ষেপণাস্ত্রটির একটি সংস্করণে ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়, যা নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে একাধিক ছোট বিস্ফোরক অংশে বিভক্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আঘাত হানতে সক্ষম।

আরও পড়ুনঃ  মাদ্রাসাছাত্রকে পেটানোর অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষককে ছাড়াতে থানায় মা

ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষেও ইরান একাধিকবার খাইবার শেকান ব্যবহারের দাবি করেছে। এর পর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

ঐতিহাসিক খাইবার যুদ্ধের স্মরণে ক্ষেপণাস্ত্রটির নামকরণ করা হয়েছে। ৬২৮ সালে আরব উপদ্বীপের খাইবার মরূদ্যান মুসলিম বাহিনীর দখলে যাওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করেই এ নাম রাখা হয়।

তবে একটি খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ঠিক কত ব্যয় হয়, সে তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ইরান। বিশ্লেষকদের ধারণা, এর উৎপাদন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছাড়ব: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র: কেন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কেন্দ্রে ইরানের এই অস্ত্র?

আপডেটের সময়: ০৮:১৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের বহুল আলোচিত ‘খাইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলায় এ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার সময় ইরান একাধিক সফল হামলায় খাইবার শেকান ব্যবহার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, খাইবার শেকানের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এটি সলিড ফুয়েলচালিত। ফলে আগে থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় রাখা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত বিভিন্ন মোবাইল লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। এতে শত্রুপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে দ্রুত হামলা চালানোর সুযোগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  হজের বিমান ভাড়া কমেছে, ২০২৩ সালের অতিরিক্ত টাকা তদন্তের দাবি ধর্মমন্ত্রীর

এ ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এটি গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। ফলে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও এটি শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাইবার শেকান তৈরির ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও এটি প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যার ব্যয় অনেক বেশি। ফলে সামরিক দিকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটি প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুনঃ  এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া আরও ৩ কর্মকর্তার দণ্ড বাতিল

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ থেকে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইরানের বিজ্ঞানীরা এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন করেছেন। এর ফলে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার কৌশলও তারা আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে।

২০২২ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হয় খাইবার শেকান। ক্ষেপণাস্ত্রটির একটি সংস্করণে ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়, যা নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে একাধিক ছোট বিস্ফোরক অংশে বিভক্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আঘাত হানতে সক্ষম।

আরও পড়ুনঃ  হুতিদের অস্ত্র তৈরির প্রকল্পে ‘ক্লড’ ব্যবহারের দাবি অ্যানথ্রোপিকের

ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষেও ইরান একাধিকবার খাইবার শেকান ব্যবহারের দাবি করেছে। এর পর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

ঐতিহাসিক খাইবার যুদ্ধের স্মরণে ক্ষেপণাস্ত্রটির নামকরণ করা হয়েছে। ৬২৮ সালে আরব উপদ্বীপের খাইবার মরূদ্যান মুসলিম বাহিনীর দখলে যাওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করেই এ নাম রাখা হয়।

তবে একটি খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ঠিক কত ব্যয় হয়, সে তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ইরান। বিশ্লেষকদের ধারণা, এর উৎপাদন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।