অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীর হামলার অভিযোগে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘নতুন বেশ’ প্রসঙ্গ টেনে দলের কর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন আসিফ নজরুল। তাঁর পোস্টে বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ এবং এর পরিণতি নিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদের সতর্ক হতে বলেন তিনি।
‘এভাবে হামলা করতে পারলেন?’
আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে লেখেন, আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীর কর্মকাণ্ড দেখে তিনি বিস্মিত। অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর এভাবে হামলা কীভাবে করা হলো এবং হামলার ঘটনা নিজেরাই প্রচার করে এর ‘অকাট্য সাক্ষী’ রেখে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হবে—এটি তাদের বা তাদের পরিবারের জন্য ভালো হবে কি না।
জয়কে নিয়ে প্রশ্ন আসিফ নজরুলের
সজীব ওয়াজেদ জয়ের নতুন বেশের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ নজরুল আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তাঁরা কি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে জয় বা তাঁর মা শেখ হাসিনার হৃদয় তাঁদের জন্য কাঁদে?
তাঁরা সত্যিই বিশ্বাস করেন কি না যে তাঁদের ভাগ্য বদলে দিতে পারবেন জয় বা শেখ হাসিনা, কিংবা তাঁদের কোনো করুণ পরিণতি হলে তাঁরা সাহায্য করবেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
‘নিজেকে বিপন্ন করা ও দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করা বাদ দেন’
আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, নিজেদের বিপন্ন করা এবং দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকা উচিত।
দলকে ভালোবাসলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কেন বাংলাদেশের সব স্তরের মানুষ নিজের জীবন বিপন্ন করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, গোপনে হলেও তা বোঝার চেষ্টা করা উচিত।
এ সময় দলের ‘স্বার্থপর নেতাদের’ প্রশ্ন করার আহ্বানও জানান তিনি।
জেনেভার ঘটনার প্রসঙ্গ
নিজের সঙ্গে দুই বছর আগে জেনেভায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আসিফ নজরুল।
তিনি দাবি করেন, সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মব’ করার পর তাঁর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি তা নেননি। এরপর আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী আরও ‘নোংরা ও বেপরোয়া’ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষ দিকে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর সহ্য করার মতো নয়।
প্রতিবেদকের নাম 




















