ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি সম্প্রচার চলাকালে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। রাতভর ও দিনভর চালানো হামলায় কিয়েভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ২৫ জন।
হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে রাশিয়ার নৈতিক অধঃপতনের নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হামলা বন্ধে পশ্চিমা ও অন্যান্য মিত্রদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিন দিনের বিরতির পর কিয়েভে ফের হামলা
সংবাদ সংস্থা ও প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধিদল মস্কো ও কিয়েভ সফরের সময় রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল।
তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার কিয়েভজুড়ে একযোগে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে শুরু করে। এরপর রুশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ (ডিএসএনএস) জানিয়েছে, রাতভর হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সলোমিয়ানস্কি জেলার একটি পাঁচতলা ভবনও রয়েছে।
টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের সময় হামলা
কিয়েভের টেলিভিশন চ্যানেল ‘উই আর ইউক্রেন’-এর কার্যালয়ে দিনের বেলায় হামলার ঘটনা ঘটে। তখন সেখানে সরাসরি সম্প্রচার চলছিল। হামলায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া সরাসরি সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তার ভাষায়, এটি রাশিয়ার নৈতিক পতন ও অবনমনের একটি নতুন অধ্যায়।
রাশিয়াকে থামাতে যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেন আতঙ্কিত মানুষ
হামলায় কিয়েভের পোদিলস্কি জেলায় বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ জীবন রক্ষায় রাতভর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেন।
দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়ায়। আহত ২৫ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে কিয়েভে বর্তমানে প্রতিদিন যে মাত্রায় বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজছে, তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
দক্ষিণাঞ্চলে ট্রেনেও হামলা
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনেও রুশ বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারী কর্মী নিহত হয়েছেন।
হামলার ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার সারাতোভেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা
এদিকে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সারাতোভ শহরের একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আঞ্চলিক গভর্নর রোমান বুসারগিন।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















