ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির একটি ট্র্যাকার অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত খরচ প্রতি দুই মিনিটে আরও প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার করে বাড়ছে।
পরিবারপ্রতি অতিরিক্ত ব্যয় ৭৬০ ডলারের বেশি
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন স্কুলের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের বাড়তি দামের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবার গড়ে ৭৬০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।
এর মধ্যে পেট্রোলের পেছনে ব্যয় বেশি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
ট্রিপল এ-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৫ দশমিক ৯০ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় এই দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
সবচেয়ে বেশি বাড়তি খরচ টেক্সাসে
অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে টেক্সাসের বাসিন্দারা জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছেন। সেখানে অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার।
ক্যালিফোর্নিয়ায় এই অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার এবং ফ্লোরিডায় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে মার্কিনিরা উচ্চ মূল্য দিতে প্রস্তুত। তবে দেশটির ভোটারদের কাছে মূল্যস্ফীতি এখনো অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
এদিকে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে কী পরিমাণ তেল সরবরাহ হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি ইউক্রেনের রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার প্রভাবও বিশ্ববাজারে পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাপ বাড়ার শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর দুই মাসেরও কম সময় বাকি। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকলে মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
প্রতিবেদকের নাম 



















