বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও অনেক মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত চার বছরে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছেন।
শুধু বর্তমানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাই নয়, দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর আকারও উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি ভবিষ্যতে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন।
প্রতিবেদনে দারিদ্র্য বাড়ার পেছনে ছয়টি বড় কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে দুর্বলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর ও ভর্তুকি ব্যবস্থার দুর্বলতা।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্য, জ্বালানি, পরিবহন ও আবাসনসহ দৈনন্দিন ব্যয় বেড়েছে। সীমিত আয়ের অনেক পরিবারকে বাড়তি খরচ সামলাতে সঞ্চয় ভাঙতে বা ঋণ করতে হচ্ছে। এতে তাদের অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে দুর্বলতা মানুষের আয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত করেছে। যেসব পরিবারের পর্যাপ্ত সঞ্চয় বা সম্পদ নেই, তারা অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে গিয়ে দ্রুত দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের সাম্প্রতিক অগ্রগতির ওপরও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কয়েক বছর আগেও দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য ছিল। তবে বর্তমানে দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠী অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর পাশাপাশি আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা না গেলে ভবিষ্যতে দারিদ্র্যের চাপ আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 





















