ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
‘প্রিন্স’-এর পর নতুন সিনেমায় কবে ফিরছেন তাসনিয়া ফারিণ? চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা আলেমদের বিভক্তি দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান আবরার হত্যা মামলায় শিশির মনিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, বহিষ্কারের দাবি রাশেদের বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সংসদীয় সহযোগিতা বাড়াতে ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ মাত্র ৮৫২ মিটারের জন্য রক্ষা, ভারতের স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ এড়াল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ দুই মাসের সর্বনিম্নের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ডিসেম্বর ঘিরে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান, এক মাসে গ্রেপ্তার ৫৩ হাজার স্বামীকে খুঁজতে ভারতে গিয়ে জানলেন তাঁর আগেই সংসার, থাই নারীর ৬০ লাখ রুপি দেওয়ার অভিযোগ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

দেনমোহর পরিশোধে গড়িমসি করলে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারবে পারিবারিক আদালত

স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে তা আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করা হলে, পারিবারিক আদালত তার বিবেচনাধিকার প্রয়োগ করে স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। ‘ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন’ দেওয়ানি রিভিশন মামলায় দেওয়া ৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর শরিয়াহ অনুযায়ী ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে ইয়াকুব আলীর সঙ্গে সানজিদা নাসরিনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ২০১৭ সালে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্বামী তাকে তালাক দেন।

আরও পড়ুনঃ  প্রতিটি শৈশব হোক নিরাপদ, ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত: ডা. জুবাইদা রহমান

তালাক কার্যকর হওয়ার পর ২০১৯ সালে বকেয়া দেনমোহর, ইদ্দতকালীন খোরপোশ ও কন্যাসন্তানের খোরপোশ দাবি করে চট্টগ্রাম পারিবারিক আদালতে মামলা করেন স্ত্রী।

মামলার শুনানি শেষে ২০২২ সালের ২৫ মে আদালত স্ত্রীর পক্ষে রায় দেন। এতে দেনমোহর বাবদ ১৮ লাখ টাকা, ইদ্দতকালীন খোরপোশ ৩০ হাজার টাকা এবং কন্যাসন্তানের বকেয়া খোরপোশ ২ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কন্যাসন্তানের বিয়ের আগ পর্যন্ত প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে খোরপোশ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়, যা প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বাড়বে।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে স্বামী ২০২৩ সালে জেলা জজ আদালতে আপিল করেন। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা জজের আদালত আপিলটি খারিজ করে পারিবারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। পরে একই বছর হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করেন ইয়াকুব আলী।

আরও পড়ুনঃ  ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

হাইকোর্টে স্বামীর আইনজীবী জানান, ডিক্রির টাকার মধ্যে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে অবশিষ্ট টাকা এককালীন পরিশোধ করা সম্ভব নয় দাবি করে বকেয়া দেনমোহর ও খোরপোশ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চাওয়া হয়।

অন্যদিকে, স্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী বলেন, স্বামী আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী ও সন্তানের আইনগত অধিকার পাওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত করছেন। অধস্তন আদালতগুলো তথ্যপ্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতেই রায় দিয়েছেন বলেও তিনি যুক্তি দেন।

হাইকোর্ট রিভিশন আবেদন খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখেন।

রায়ে আদালত বলেন, দেনমোহরের কোনো অংশ মওকুফ বা মাফ করার এখতিয়ার আদালতের নেই। তবে স্ত্রী স্বেচ্ছায় ও সচেতনভাবে দেনমোহরের পুরো অংশ বা কোনো অংশ স্বামীর অনুকূলে মাফ করতে পারেন। এক্ষেত্রে মওকুফটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে করা হয়েছে—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকতে হবে। বলপ্রয়োগ, অনুচিত প্রভাব বা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া কোনো মওকুফ বৈধ বলে গণ্য হবে না।

আরও পড়ুনঃ  আবরার হত্যার জাগরণেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান: রিজভী

আদালত আরও বলেন, বর্তমান মামলায় নির্ধারিত দেনমোহর কনে ও বরের আর্থিক সামর্থ্য বা সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়নি। ফলে লিখিত চুক্তির শর্ত অমান্য করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন বিবেচনায় স্কুলগামী নাবালিকা সন্তানের খোরপোশের প্রয়োজনীয়তাও আদালত স্বীকার করেন।

সব দিক বিবেচনায় অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রিতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের মতো কোনো আইনগত ত্রুটি বা এখতিয়ারগত ভুল পাওয়া যায়নি। ফলে রিভিশন আবেদনটি খারিজ করে আগের রায় বহাল রাখা হয়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘প্রিন্স’-এর পর নতুন সিনেমায় কবে ফিরছেন তাসনিয়া ফারিণ?

দেনমোহর পরিশোধে গড়িমসি করলে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারবে পারিবারিক আদালত

আপডেটের সময়: ০৫:৪৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে তা আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করা হলে, পারিবারিক আদালত তার বিবেচনাধিকার প্রয়োগ করে স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। ‘ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন’ দেওয়ানি রিভিশন মামলায় দেওয়া ৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর শরিয়াহ অনুযায়ী ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে ইয়াকুব আলীর সঙ্গে সানজিদা নাসরিনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ২০১৭ সালে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্বামী তাকে তালাক দেন।

আরও পড়ুনঃ  ন্যায়বিচারের দাবিতে থানার সামনে মেঘলা মুক্তা, বললেন ‘আমাদের দেশে জন্ম নেওয়াটাই যেন ভুল’

তালাক কার্যকর হওয়ার পর ২০১৯ সালে বকেয়া দেনমোহর, ইদ্দতকালীন খোরপোশ ও কন্যাসন্তানের খোরপোশ দাবি করে চট্টগ্রাম পারিবারিক আদালতে মামলা করেন স্ত্রী।

মামলার শুনানি শেষে ২০২২ সালের ২৫ মে আদালত স্ত্রীর পক্ষে রায় দেন। এতে দেনমোহর বাবদ ১৮ লাখ টাকা, ইদ্দতকালীন খোরপোশ ৩০ হাজার টাকা এবং কন্যাসন্তানের বকেয়া খোরপোশ ২ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কন্যাসন্তানের বিয়ের আগ পর্যন্ত প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে খোরপোশ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়, যা প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বাড়বে।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে স্বামী ২০২৩ সালে জেলা জজ আদালতে আপিল করেন। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা জজের আদালত আপিলটি খারিজ করে পারিবারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। পরে একই বছর হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করেন ইয়াকুব আলী।

আরও পড়ুনঃ  যাত্রীচাপ সামলাতে ব্যস্ত রুটের ট্রেনে বাড়ছে কোচ

হাইকোর্টে স্বামীর আইনজীবী জানান, ডিক্রির টাকার মধ্যে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে অবশিষ্ট টাকা এককালীন পরিশোধ করা সম্ভব নয় দাবি করে বকেয়া দেনমোহর ও খোরপোশ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চাওয়া হয়।

অন্যদিকে, স্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী বলেন, স্বামী আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী ও সন্তানের আইনগত অধিকার পাওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত করছেন। অধস্তন আদালতগুলো তথ্যপ্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতেই রায় দিয়েছেন বলেও তিনি যুক্তি দেন।

হাইকোর্ট রিভিশন আবেদন খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখেন।

রায়ে আদালত বলেন, দেনমোহরের কোনো অংশ মওকুফ বা মাফ করার এখতিয়ার আদালতের নেই। তবে স্ত্রী স্বেচ্ছায় ও সচেতনভাবে দেনমোহরের পুরো অংশ বা কোনো অংশ স্বামীর অনুকূলে মাফ করতে পারেন। এক্ষেত্রে মওকুফটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে করা হয়েছে—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকতে হবে। বলপ্রয়োগ, অনুচিত প্রভাব বা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া কোনো মওকুফ বৈধ বলে গণ্য হবে না।

আরও পড়ুনঃ  সৌদিতে হুতিদের হামলায় প্রাণ গেল কুমিল্লার বাংলাদেশি সজিবের

আদালত আরও বলেন, বর্তমান মামলায় নির্ধারিত দেনমোহর কনে ও বরের আর্থিক সামর্থ্য বা সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়নি। ফলে লিখিত চুক্তির শর্ত অমান্য করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন বিবেচনায় স্কুলগামী নাবালিকা সন্তানের খোরপোশের প্রয়োজনীয়তাও আদালত স্বীকার করেন।

সব দিক বিবেচনায় অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রিতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের মতো কোনো আইনগত ত্রুটি বা এখতিয়ারগত ভুল পাওয়া যায়নি। ফলে রিভিশন আবেদনটি খারিজ করে আগের রায় বহাল রাখা হয়।